পটনা, ৬ জুন : বিহারের সমস্তিপুরে একটি যৌথ অভিযানে শুক্রবার পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) ও সমস্তিপুর জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে গুলির লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে বরখাস্ত এক এএসআই-সহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ, যা রাজ্যে সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে।
প্রধান অভিযুক্ত বরখাস্ত এএসআই সরোজ সিং ওরফে নিমকি সিংকে সমস্তিপুর জেলার মোহিউদ্দিন নগর থানার অন্তর্গত সুলতানপুর গঙ্গা দিয়ারা গ্রামে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন পাতোরি রেঞ্জের সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার।
পুলিশ জানিয়েছে, সরোজ সিংয়ের বাড়ি থেকে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৪৫০-রও বেশি জীবিত কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। সরোজ সিংয়ের সঙ্গে স্থানীয় অস্ত্র চোরাকারবারিদের যোগাযোগ রয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। অভিযান চলাকালীন সরোজ সিং ও তার স্থানীয় সমর্থকেরা পুলিশের ওপর গুলি চালায়। যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়েই শুরু হয় গুলিবর্ষণ। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ। এর ফলে গোটা গ্রামে একপ্রকার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।
অভিযানে অংশ নেওয়া বাহিনীর এক আধিকারিক জানান, সরোজ সিংয়ের বাড়িতে অভিযান চলাকালীন স্থানীয় কয়েকজন তার পক্ষে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে পুলিশ ও এসটিএফ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।ধৃত চারজনকে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও কার্তুজের প্রকৃতি সম্পর্কে তদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলির ফরেনসিক পরীক্ষা চালানো হবে।
প্রসঙ্গত, প্রায় এক বছর আগে সরোজ সিংকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। যদিও বরখাস্তের নির্দিষ্ট কারণ এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। তবে সূত্রের খবর অনুযায়ী, তার অস্ত্র পাচার চক্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এত বড় মাত্রায় অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আরও জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধান শেষ হলে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে। বর্তমানে সরোজ সিংয়ের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


















