নয়াদিল্লি, ৬ জুন: দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা শুক্রবার জানিয়েছেন, জাতীয় রাজধানীতে ক্ষমতায় থাকাকালীন আম আদমি পার্টি (আপ) যে অনিয়মে লিপ্ত ছিল, তা সিএজি রিপোর্টে ফাঁস হয়েছে এবং এই দুর্নীতির মামলায় আপ নেতাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ অনিবার্য।
উত্তর দিল্লির হায়দারপুর গ্রামের একটি সরকারি বিদ্যালয় পরিদর্শনের পর সংবাদমাধ্যমকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পূর্বতন কেজরিওয়াল সরকার এক ধরনের ‘কৃত্রিম শিক্ষা ব্যবস্থা’ তৈরি করেছিল, যার আওতায় নির্মিত বিদ্যালয় ভবনগুলো এতটাই দুর্বল ছিল যে মাত্র দু’বছরের মধ্যেই ধসে পড়তে শুরু করেছে।”
তিনি জানান, “যে ভবনটি আমি আপনাদের দেখালাম, সেটি ২০১৮ সালে কেজরিওয়াল সরকারের আমলে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু মাত্র দুই বছরের মধ্যেই সেটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এটি ছিল কৃত্রিম উন্নয়ন।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “সিএজি রিপোর্টে এখনও পর্যন্ত যেসব দুর্নীতির তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, সেই বিষয়ে এখনও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আইন তার নিজস্ব পথে চলবে, এবং একবার প্রক্রিয়া শুরু হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
হায়দারপুর গ্রামের স্কুল পরিদর্শনের সময় মুখ্যমন্ত্রী জানান, “এত ঘনবসতিপূর্ণ একটি এলাকায় আজও কোনও ইংরেজি মাধ্যম স্কুল বা বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ নেই। গ্রামের বা কলোনির ছাত্ররা যদি বিজ্ঞান পড়তে চায়, তবে তারা কোথায় যাবে?” তিনি পূর্বতন আপ সরকার এবং স্থানীয় বিধায়কের “ব্যর্থতা”র কথা উল্লেখ করে বলেন, “ইংরেজি মাধ্যম ও বিজ্ঞান বিভাগসহ একটি ভালো মানের স্কুল তৈরি করতেও তারা ব্যর্থ হয়েছে। এটি তাদের তথাকথিত শিক্ষা নীতির দিশা সম্পর্কে অনেক কিছু বলে দেয়।”
সরকারি বিদ্যালয় ভবনের নিম্নমানের নির্মাণের পাশাপাশি খেলাধুলার সুযোগ না রাখার জন্যও আপ সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। “কোনও খেলার মাঠ নেই, স্পোর্টস ফ্যাসিলিটির একেবারে অভাব,” বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, “নিরাপত্তা থেকে স্বাস্থ্যবিধি — সব ক্ষেত্রেই সরকারি স্কুলগুলোর অবস্থা শোচনীয়। অধ্যক্ষসহ পর্যাপ্ত শিক্ষাকর্মী নেই।”
বিজেপি সরকার ইতিমধ্যেই স্কুলে অধ্যক্ষ নিয়োগ ও নিরাপত্তা-পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সারা শহর জুড়ে প্রায় ৭৫টি ‘সিএম শ্রী স্কুল’ গড়ে তোলা হবে, যেগুলো বেসরকারি স্কুলের থেকেও ভালো হবে।”
এছাড়াও দিল্লিতে নিজস্ব শিক্ষা বোর্ড চালুর জন্য পূর্বতন আপ সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই ভুলের কারণে দিল্লির ছাত্ররা এখন অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারছে না বা বাইরের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে সমস্যায় পড়ছে। এই ভুল সংশোধন করা হবে।”


















