আগরতলা, ১১ নভেম্বর, ২০২৪: পঞ্চাযেতি রাজ ব্যবস্থায় নির্বাচিত মহিলা জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালন কার্যক্রমে মহিলার প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে আজ দুই দিনের সেমিনারের সূচনা হয়। সুপ্রিম কোর্টের মাম্প্রতিক একটি আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এই সেমিনারটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। শীর্ষ আদালতের এই পদক্ষেপের সূত্রে, পঞ্চায়েত ক্ষেত্রে মহিলাদের হয়ে তাঁদের পুরুষ আত্মীয়, বিশেষত স্বামীরা “প্রধান শক্তি” হিসেবে যে প্রক্সি প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ নিতেন তা বন্ধ করার উদ্দেশে পঞ্চায়েত মন্ত্রক দেশের বিভিন্ন রাজ্যে পরামর্শমূলক কর্মশালা আয়োজন করছে।
আগরতলায় এই কর্মশালা একই লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়। এর উদ্দেশ্য মহিলাদের প্রকৃত নেতৃত্ব ও দায়িত্ব পালন করতে বাধা হয়ে দাঁড়ানো প্রক্সি ব্যবস্থাপনার বিরোধিতা করা এবং পঞ্চায়েতের প্রতিটি পর্যায়ে মহিলাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। মহিলা জনপ্রতিনিধিরা প্রায়ই প্রশাসনিক ও সামাজিক সমস্যার সম্মুখীন হন, যেখানে তাঁরা নির্বাচিত হওয়া সত্বেও পরিবারের পুরুষ সদস্য বা “স্বামী” মহিলাদের হয়ে দায়িত্ব পালন করেন, যা মহিলাদের ক্ষমতায়নে একটি বড় বাধা ।
আজ সেমিনারের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা সরকারের আর.ডি (পঞ্চায়েত) দপ্তরের সচিব ডা: সন্দীপ আর রাঠোড়। এছাড়া সেমিনারে অংশ নেন কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত রাজ মন্ত্রের অধিকর্তা রমিত মৌরিয়া, , পুনের যশোবন্ত রাও চ্যবন একাডেমি অফ ডেভেলপমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (যশদা) এর ডেপুটি ডিরেক্টর জেনেরাল ডঃ মল্লিনাথ কালশেট্টি । ত্রিপুরা সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের মনিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, সিকিম সহ ৬টি রাজোর মহিলা প্রতিনিধিরা সেমিনারে প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দিলেন ত্রিপুরার জেলা পরিষদের মহিলা সভাধিপতিগণ, পঞ্চায়েত সমিতির মহিলা চেয়ারপার্সনগণ, গ্রাম পঞ্চায়েতের মহিলা প্রধানগণ এবং বিভিন্ন মহিলা স্বনির্ভর দলের সদস্যারা। এখাড়া উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও মহিলা ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।
কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব শ্রীমতি মমতা ভার্মা এই সেমিনারে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে তাঁর বক্তব্যে জানান, এই সেমিনার মহিলাদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। প্রক্সি প্রতিনিধিত্ব বন্ধের জন্য সুপ্রিম কোর্টের আদেশ মহিলাদের নিজস্ব নেতৃত্বে পরিচালিত পঞ্চায়েতি রাজ বাবস্থার পক্ষে হয়ে উঠবে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
অনুষ্ঠানে, উদ্বোধকের ভাষণে ত্রিপুরার পঞ্চায়েত সচিব ডাঃ সন্দীপ আর রাঠোর বলেন, ত্রিপুরায় প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ আসনে মহিলা জনপ্রতিনিধি। রাজ্যে ৫ টি সংস্থা, মাতাবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতি, খিলপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত, থাকছড়া গ্রাম পঞ্চায়েত, করইমুড়া গ্রাম পঞ্চায়েত ও হালহুলি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে, যেখানে সব সদস্য মহিলা এমনকি অফিস কর্মীরাও সব মহিলা। মহিলা ক্ষমতায়নে এ এক নিদর্শন। ত্রিপুরায় রাজন্য আমল থেকেই মহিলাদের অধিকার সুনিশ্চিত। শ্রী রাঠোড় বলেন, ত্রিপুরায় এই ধরনের সেমিনার মহিলাদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। সুপ্রিম কোর্টের আদেশটি মহিলাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং এটি পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থায় প্রকৃত মহিলা নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করবে।
দুই দিনব্যাপী সেমিনারে মূলত আলোচ্য বিষয় দিল প্রক্সি প্রতিনিধিত্বের ক্ষতিকর প্রভাব এবং স্বাধীনভাবে মহিলা প্রতিনিধিদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে প্রশাদনসহ সামাজিক, রাজনৈতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনগণ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রযোজনীয় পদক্ষেপের উপর জোর দেওয়া।
সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে মান্যতা দিয়ে মহিলাদের সুনির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষা এবং প্রশিক্ষণের প্রযোজনীয়তার উপরও জোর দেওয়া হয়। মহিলা প্রতিনিধিরা কেবলমাত্র শাসনকাজে অংশগ্রহণ করবেন না, বরং তারা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াতেও স্বতন্ত্র ভূমিকা পালন করবেন, যা তাদের নিজস্ব ক্ষমতার পরিসর বৃদ্ধি করবে।
উল্লেখ্য, সেমিনারের দ্বিতীয় দিনটি ত্রিপুরা পঞ্চায়েত ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোকপাত করা হবে। কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রক সহ প্রতিনিধিগণ বিভিন্ন পঞ্চায়েতে যাবেন এবং সেখানে ত্রিপুরায় নির্বাচিত মহিলা জনপ্রতিনিধিদের শাসনকাজ সহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে মত বিনিময় করবেন। এই সেমিনারটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যের মহিলাদের প্রমতায়নের ক্ষেত্রে এবং সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে কার্যকর করতে বিশেষ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে ।



















