গুয়াহাটি, ৯ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : দূরপাল্লার ট্রেনগুলিতে ভ্রমণকারীদের, বিশেষত যে সমস্ত মহিলা একা ভ্রমণ করেন তাঁদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে। উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মহিলা রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ)-এর ‘মেরি সহেলি’ নামে উৎসর্গকৃত টিম রয়েছে। সমগ্র রেল নেটওয়ার্কে মহিলা ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রদানের জন্য মহিলা আরপিএফ কর্মীরা নিয়োজিত। মেরি সহেলি পদক্ষেপের অধীনে ট্রেন এসকর্টিং, যাত্রী ও স্টেশন সুরক্ষার মতো দায়িত্ব তাঁরা পালন করেন।
আজ সোমবার উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা এক প্ৰেস বাৰ্তায় এ খবর দিয়ে জানান, বর্তমানে সমগ্র জোনের মধ্যে বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনে মহিলা আরপিএফ কর্মীদের দিয়ে গঠিত ১৫টি উৎসর্গকৃত ‘মেরি সহেলি’ স্কোয়াড কর্মরত। এই স্কোয়াডগুলি মহিলা আরপিএফ অফিসার / স্টাফদের দ্বারা গঠন করা হয়েছে, যাঁরা ট্রেনে একা ভ্রমণকারী মহিলা যাত্রীদের যত্ন নিয়ে থাকেন। এছাড়া সম্ভাব্য মানব পাচারকারীদের কবল থেকে মহিলা যাত্রীদের সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে সমগ্র উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে জুড়ে ৫৩টি অ্যান্টি হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইউনিট (এএইচটিইউ) কর্মরত রয়েছে। চলতি বছরে মানব পাচারকারীদের কবল থেকে চার মহিলা যাত্রীকে উদ্ধার করার পাশাপাশি তিন মানব পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত মহিলা সুরক্ষা সম্বন্ধীয় অপরাধের জন্য ছয়টি ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে এবং ছয় অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি জানান, এছাড়া প্রায় ১০টি ট্রেনে পুরুষ আরপিএফ কর্মীদের পাশাপাশি মহিলা কর্মীদের নিয়ে গঠিত মিক্সড-এসকর্ট পার্টি প্রদান করা হয়েছে, যাতে তাঁরা প্রয়োজনে যে কোনও মহিলা যাত্রীর প্রতি তাৎক্ষণিকভাবে সাহায্যের হাত এগিয়ে দিতে পারেন। মহিলাদের সুরক্ষা শক্তিশালী করতে সমগ্র উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে জুড়ে ৪৬টি স্টেশনে সিসিটিভি নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে রেলওয়ের মাধ্যমে যাত্রাকারী মহিলাদের জন্য উন্নতমানের নিরাপত্তা ও সুরক্ষামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়। পাশাপাশি রেলওয়ে চত্বরে যাতে খালি কোচগুলিতে মহিলা সুরক্ষা সম্বন্ধীয় কোনও ধরনের অপরাধ সংঘটিত করার জন্য ব্যবহার করা না যায় তার জন্য স্থির কোচগুলির দরজা বন্ধ রাখা নিশ্চিত করা হয়েছে।


















