কাঁকসায় অবৈধ বালি বোঝাই ট্রাক্টর আটকে বিক্ষোভ বিজেপির

দুর্গাপুর, ৭ নভেম্বর (হি.স.): দুর্গা পুজো মিটতেই রমরমিয়ে শুরু হল অজয় দামোদরে অবৈধভাবে বালি পাচার। পুকুর কাটার নামে কোথায় কাটা ব্যাবসার নামে আবার কোথাও লোকাল নির্মানের নামে নতুন কায়দায় বালি পাচার। সোমবার কাঁকসার বসুধায় অবৈধ বালি পাচার রুখে বিক্ষোভ দেখাল বিজেপি। ঘটনাকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়াল বসুধা গ্রামে। প্রশ্নের উঠেছে ভুমি রাজস্ব দফতরের ভূমিকায়।

প্রসঙ্গত, বর্ষার মরশুমে নদীতে বালি তোলা, মোরাম ও মাটি খাদান চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকে। কারন এই সময় নরম মাটিতে ধস প্রবনতা ও দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। আর ওই নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে অজয় ও দামোদরে একেবারে নতুন কায়দায় চলছে বালি উত্তোলন ও পাচার। কাঁকসার বনকাটি এগারো মাইলে ওয়েব্রীজ অর্থাৎ ওজন কাটা ব্যাবসার নামে আবার বসুধায় পুকুর খননের নামে অবাধে চলছে বালি পাচার। আবার দামোদরে ”লোকাল নির্মানে”র নামে চলছে বালি উত্তোলন। তারপর নদী থেকে কিছুটা দুরে সেসব মজুত করা হচ্ছে। এবং সেখান থেকে ডাম্পার লরিতে বোঝাই হয়ে কোলকাতায় যাচ্ছে। সোমবার বসুধায় অবৈধ বালির ট্রাক্টর আটকে বিক্ষোভ দেখাল স্থানীয় বিজপি নেতৃত্ব। জানা গেছে, সেখানে একটি পুকুর খনন চলছিল। তাতে রহস্যজনকভাবে প্রচুর বালি মজুত ছিল। ওই বালি ট্রাক্টরে করে পাচার করা চলছিল। বছর কয়েক আগে ওই পুকুরে একশ দিনের কাজও হয়। জানা গেছে ওই এলাকা একসময় অজয় নদীর চর ছিল। বর্তমানে চাষজমির পাশাপাশি জনবসতিও গড়ে উঠেছে। একইরকমভাবে অজয় নদীর বালি ট্রাক্টরে করে

পানাগড়- মোরগ্রাম সড়কে কাটা ব্যাবসার নামে মজুত করা হয়। আবার সেখান থেকে লরি ডাম্পারে করে কোলকাতায় পাচার হয়। এদিন স্থানীয় বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য পাপিয়া দাস দলিয় কর্মীদের নিয়ে ওই বালি পাচার আটকে দেয়। এদিন পাপিয়া দাস বলেন,” পঞ্চায়েতের মদতে চলছে অবৈধ বালি পাচার। ফলে গ্রামের কংক্রিটের রাস্তা ড্রেন ভেঙে পড়ছে। সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব লোকসান হচ্ছে। বিষয়টি পঞ্চায়েত ও বিএলআরওকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোন কাজ হয়নি।” তিনি আরও বলেন,” পঞ্চায়েত প্রধানের

স্বামী বালি মাফিয়া। বেশ কয়েকবার জাল চালান ও বিএলআরও গাড়ীতে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস বিড়ালকে দিয়েছে মাছ ভাগ করতে। সেই বালি মাফিয়ার স্ত্রীকে প্রধান করেছে। তাই আমরা ধিক্কার জানাচ্ছি। এবং এই অবৈধ বালি পাচার বন্ধ হোক।” কাঁকসার অজয় নদীতে শিবপুর, কাজলাডিহি, কোটালপুকুর, পেয়ারাবাগান, সাতকাহানিয়া ঘাটে দিনরাত চলছে অবৈধভাবে বালি পাচার। কমপক্ষে ৫০ ট্রাক্টর দিনের আলোয় নদী থেকে বালি তুলে পানাগড় মোরগ্রাম সড়কের পাশে ও একটি রাইস মিলের কাটাতে মজুত করছে। তারপর সেখান থেকে লরি ও ডাম্পারে বোঝাই হয়ে শহরে যাচ্ছে। একইরকমভাবে দামোদরে সিলামপুর, আইমা, শাকুড়ি, শালডাঙা ঘাটে অবাধে চলছে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলন ও পাচার। দিনরাত কমবেশী ৯০ টি ট্রাক্টর সিলামপুরে রমরমিয়ে অবৈধ বালির চোরা কারবার চালাচ্ছে। সিলামপুর থেকে বালি তুলে বিরুডিহা, বাঁশকোপা, এলএন্ডটি মোড়, জাতীয় সড়ক লাগোয়া ও পানাগড় ক্যানেল পাড় এলাকায় মজুত করছে। সেখান থেকে লরিতে ও ডাম্পারে বোঝাই করে শহরে যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে ভুমি রাজস্ব দফতরের ভুমিকায়।

অর্থনৈতিক সঙ্কটে যখন রাজ্য। তখন কোটি টাকার রাজস্ব লোকসান হচ্ছে রাজ্যের। জানা গেছে, বালি উত্তলনে যেমন ভুমি রাজস্ব দফতরের নিয়ম মেনে অনুমতি নিতে হয়। তেমনই বালি মজুত করতে হলেও রয়েলটি দিয়ে অনুমতি নিতে হয়। আর এসবের তোয়াক্কা না করে অবাধে চলছে অবৈধ বালির চোরা কারবার। তার জেরে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব লোকসান হচ্ছে। এছাড়াও বালির গাড়ি যাতায়াতে বেহাল হয়ে পড়ছে গ্রামের রাস্তা। এদিন বনকাটি পঞ্চায়েতের প্রধান তাবাসুম খাতুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,” পঞ্চায়েত কোন বালি তোলার অনুমতি দেয় না। বসুধা গ্রামে পুকুর খননের জন্য একটি আবেদন এসেছিল। তাতে সরকারি নিয়ম মেনে বিএলআরও অনুমতি নিয়ে খনন করতে বলা হয়েছিল।” তিনি আরও বলেন,” বসুধা গ্রাম বিজেপি প্রভাবিত। সেখানে বিজেপির একাংশের মদতে ওই বালি পাচার চলছে। আর তার ভাগ নিয়ে নিজেদের দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে।” তবে কাটা ব্যাবসার নামে বালি পাচারের অনুমতি তিনি বলেন,” এগুলো আগের বোর্ডের অনুমতি নেওয়া। এখন অন লাইনে ট্রেড লাইসেন্স করিয়ে নিচ্ছে। তবুও আমরা বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।” কাঁকসা ভুমি রাজস্ব দফতর জানিয়েছে,” অবৈধ বালিঘাটে নিয়মিত অভিযান হয়। মামলাও দায়ের করা হয়। ব্লক থেকে কোনরকম বালি তোলার অনুমতি দেওয়া হয় না। জেলা থেকে দেয়। বসুধার ঘটনা খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।”