“ভোটে গোটা দেশে, এ রাজ্যে খুব ভাল ফল করবে বিজেপি“, প্রত্যয়ী দীনেশ শর্মা

কলকাতা, ৯ জুন (হি. স.) : “আগামী লোকসভা নির্বাচনে গোটা দেশে সাড়ে তিনশ’র ওপর আসন পাবে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গ থেকে পাবে গোটা ৩৫ আসন। ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে এরাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটেও যথেষ্ঠ ভাল করবে বিজেপি।”

বুধবার রাতে একান্ত সাক্ষাৎকারে এই প্রতিবেদকের কাছে এই মন্তব্য করলেন উত্তরপ্রদেশের এমএলসি, ওই রাজ্যের প্রাক্তন উপ মুখ্যমন্ত্রী দীনেশ শর্মা। দ্বিধাহীনভাবে দাবি করলেন, “আগামী লোকসভা ভোটের পর উপর্যুপরি তৃতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হবেন নরেন্দ্র মোদী।“

কিন্তু এতটা নিশ্চয়তার কারণ কী? কর্ণাটক-সহ একাধিক রাজ্যে গত বিধানসভা ভোটে বিজেপি ততটা আশা জাগাতে পারেনি? কিছু রাজ্যে আগামী বিধানসভা ভোটে বিজেপি-র ফল নিয়ে অনেকের মনে সংশয় রয়েছে? প্রশ্নের উত্তরে দীনেশবাবু বলেন, “বিরোধীরা ছত্রভঙ্গ। দেখবেন কর্ণাটক-সহ দক্ষিণের রাজ্যগুলোয় লোকসভা ভোটে বিজেপি যথেষ্ঠ ভাল ফল করবে!“ অন্য দলের সঙ্গে আসন সমঝোতার সম্ভাবনা সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য, “বিজেপি-র নীতি, আদর্শে বিশ্বাসী কোনও দলের সঙ্গে সমঝোতা হতেই পারে!”

বাতাসে ভাসছে বিজেপি লোকসভা ভোটে জিতলে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। এই প্রসঙ্গে দীনেশবাবুর বক্তব্য, “উনি অবশ্যই

উত্তরপ্রদেশের সফল মুখ্যমন্ত্রী। গত বিধানসভা ভোটে ওই রাজ্যে বিজেপি খুব ভাল ফল করেছে। লোকসভা ভোটেও খুব ভাল ফল করবে। উত্তরপ্রদেশে লোকসভার ৮০টি আসনের মধ্যে ৭০-এর ওপর পাবে বিজেপি। তবে প্রধানমন্ত্রী হবেন নরেন্দ্র মোদীই। যোগীজী মোদীর অনুগামী। মোদীজী সবার নেতা।”
বিজেপি-র ‘মহাসম্পর্ক অভিযান’-এ এসে পশ্চিমবঙ্গে গ্রামেগঞ্জে ঘুরছেন! আগামী পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপি-র পক্ষে সত্যি আশার কোনও আলো দেখছেন? প্রশ্নের উত্তরে দীনেশবাবু এই প্রতিবেদককে বলেন, “অবশ্যই! আগের চেয়ে এ রাজ্যে দলের অবস্থা ভাল হয়েছে। আরও ভাল হবে। ভীষণরকম প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া আছে। এর সুফল বিজেপি-ই পাবে।“
কিন্তু বামেরাও তো পশ্চিমবঙ্গে হারানো জমি উদ্ধারের কাজে অনেকটা সফল হয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের অনুমান? দীনেশবাবুর উত্তর, “না। হাওয়া বিজেপি-র পালেই। দলের বিভিন্ন পর্যায় শক্তিশালি করার চেষ্টা হচ্ছে।”
এ রাজ্যে আগামী পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপি-র ব্যাপারে এতটা নিশ্চয়তা পাচ্ছেন কীভাবে? দীনেশবাবুর উত্তর, “তৃণমূলের পুরনো নেতারা ও তাঁদের অনুসারীরা অধিকাংশই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মেনে নিতে পারছেন না। অভিষেকের ক্ষমতা ও তার অপব্যবহার বাড়ছে দেখে অনেকে শঙ্কিত। দলের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। এই অবস্থা পশ্চিমবঙ্গে আগামী ভোটে তৃণমূলের ক্ষতি করবে। সুফল পাবে বিজেপি।”
তবে, যেভাবে সর্বদল বৈঠক ছাড়া, আচমকা পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত ভোট ঘোষণা হয়েছে, সেব্যাপারে ক্ষোভ জানিয়েছেন দীনেশ শর্মা। ৩রা থেকে ১০ জুন সারা দিন এ রাজ্যের নানা অঞ্চলে হরেক সূচি তাঁর। উত্তরপ্রদেশে ফিরে যাবেন ১১ই।