নয়াদিল্লি, ৪ এপ্রিল(হি.স.) : হাওড়া ও রিষড়ায় সাম্প্রতিক সময়ে যে অশান্তির ঘটনা ঘটেছে, সেই নিয়ে এবার রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চাইল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক । আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই রিপোর্ট জমা দিতে হবে রাজ্যকে।
রামনবমীর মিছিল ঘিরে প্রথমে হাওড়ার রামরাজাতলা ও পরে রিষড়ায় হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। বিরোধীরা অভিযোগ করছেন, পুলিশ-প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। এমনকী এই ব্যাপারে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে দাবি জানিয়েছেন শুভেন্দু-সুকান্তরা। পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিরপেক্ষ নয় বলেও অভিযোগ ওঠে। রবিবারের পর সোমবার রাতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় রিষড়ার ৪ নম্বর রেলগেট এলাকায়। যা নিয়ে আজ সকাল থেকেই তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। অবিলম্বে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবিতেও সরব হন বঙ্গ বিজেপি।
গত কয়েকদিন ধরেই হাওড়া-রিষড়াতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ছবিও সামনে এসেছে। পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনাও ঘটেছে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এদিন তিনি রিষড়াতে যান। এমনকী দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন। তারপরই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রিপোর্ট তলব করা হয় । রিপোর্টে জানতে চাওয়া হয়েছে, সরকারে কাছে এই হিংসার ঘটনা নিয়ে কোনও খবর আগে থেকে ছিল না কিনা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কী ভূমিকা ছিল, তা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
প্রসঙ্গত, শিবপুরের ঘটনার পর পরিস্থিতির বিবরণ জানিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ও এনআইএ তদন্তে দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে চিঠি লেখেন রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার। সোমবার এই ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে আদালত। এর পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের থেকেও রিপোর্ট তলব করা হল।
এর আগে জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশন (এনসিপিসিআর) অভিযোগ তোলে, শিবপুরের অশান্তিতে শিশুদের দিয়ে পাথর ছোড়ানো হয়েছে। হাওড়ার সিপি প্রবীণ ত্রিপাঠীকে চিঠি দিয়ে এনসিপিসিআরের চেয়ারম্যান জানতে চান, দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্টও তলব করেন।



















