ত্রিপুরায় জনজাতি ভোটে বড়সড় থাবা তিপরা মথার, বিরোধী আসনে বসেই গ্রেটার তিপরাল্যান্ডের লড়াই জারি থাকবে, ঘোষণা প্রদ্যোতের

আগরতলা,২ মার্চ(হি.স.): ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচনে জনজাতি ভোটে বড়সড় থাবা বসিয়েছে তিপরা মথা। ২০টি জনজাতি আসনের মধ্যে তিপরা মথা একাই ১৩টি আসনে জয়ী হয়েছে। সেই সুবাদে ২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনে তিপরা মথা দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তাই, দলের সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মনের দাবি, কারোর সাথে মিলে নয়, বিরোধী আসনে বসেই জনজাতি কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা নেবে তিপরা মথা। গ্রেটার তিপরাল্যান্ডের দাবি নিয়ে বিধানসভার ভেতরে আওয়াজ তোলার জন্য জনগণ আমাদের সুযোগ দিয়েছেন। সেই সুযোগের অবশ্যই মর্যাদা দেবে তিপরা মথা। 

প্রসঙ্গত, ২০১৮ বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিপুরায় জনজাতি আসনে বিজেপি ও আইপিএফটি জোট ১৮টি আসনে জয়ী হয়েছিল এবং সিপিএমের দখলে দুইটি আসন গিয়েছিল। তেইশের বিধানসভা নির্বাচনে তিপরা মথা ১৩টি আসনে এবং বিজেপি ও আইপিএফটি জোট ৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। এক্ষেত্রে সিপিএম গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় দুইটি আসন হারিয়েছে। 

ফলাফল ঘোষণার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রদ্যোত বলেন, বিজেপি কিংবা সিপিএম ও কংগ্রেস, কোন রাজনৈতিক দলের সাথেই বসবে না তিপরা মথা। তবে, ইস্যু ভিত্তিক সমস্যায় সহায়তা করতে প্রস্তুত তিপরা মথা। সাথে তিনি যোগ করেন, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে কাজ করতেও আমরা প্রস্তুত রয়েছি। 

তাঁর দাবি, জনজাতিদের কোনভাবেই আমরা অবহেলা করতে পারিনা। বিজেপি চাইলে তিপরা মথাও জনজাতি কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা নেবে। কিন্তু, কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার ও বিরোধীদের জনজাতিদের বেদনা অনুভব করতে হবে। তাঁদের সত্যিকারের সমস্যা দ্রুততর সাথে সমাধান করতে হবে। তাঁর মতে, বিরোধীরাও জনগণের কল্যাণে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে সরকারের সহযোগিতা করেছে। অতীতে এমন বহু উদাহরণ দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে রয়েছে। যেখানে স্বর্গীয় অটল বিহারী বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে সহায়তা করেছেন। 

তাঁর কথায়, জনজাতি অংশের মানুষ তিপরা মথা-কে ঢেলে আশীর্বাদ করেছেন। গ্রেটার তিপরাল্যান্ডের দাবি নিয়ে বিধানসভা ভেতরে আওয়াজ তোলার সুযোগ দিয়েছেন। তিপরা মথা অবশ্যই সেই সুযোগের সমাদর করবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার এবং বিরোধীরা জনজাতিদের সমস্যা বুঝবেন এবং তার সমাধানে এগিয়ে আসবেন। 

এদিন তিনি কংগ্রেসের বিরুদ্ধেও একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কখনোই ত্রিপুরাকে গুরুত্ব দেননি। তাই, জনজাতিদের আওয়াজ উঠুক তাঁরা সহযোগিতা করেননি। তাঁর দাবি, দলীয় অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণেই ত্রিপুরায় কংগ্রেস দুর্বল হয়ে গেছে। তবে, বনমালিপুর কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থীর জয় বিজেপিকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করবে। 

তাঁর সাফ কথা, তিপরা মথা বিধানসভা নির্বাচনে বিভাজনের ভূমিকায় ছিল না। জনজাতি ইস্যু নিয়ে দল সরব হয়েছে, জনগণ আমাদের ঢেলে সমর্থন দিয়েছেন। তাঁর দাবি, শুধু সিপিএম-কংগ্রেস কিংবা তিপরা মথা নয়, গ্রেটার তিপরাল্যান্ডের দাবি বহু বিজেপি কর্মীরাও সমর্থন করেছেন। তাই, ২০১৮ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-আইপিএফটির প্রাপ্ত আসন এবার অধিকাংশই তিপরা মথার দখলে গেছে। তিনি বলেন, জনজাতি ২০টি আসনে তিপরা মথা ১৩টি, বিজেপি টি এবং আইপিএফটি ১টি আসনে জয়ী হয়েছে। অথচ ২০১৮ বিধানসভা নির্বাচনে ওই ২০টি আসনে বিজেপি টি, আইপিএফটি ৮টি এবং সিপিএম ২টি আসনে জয়ী হয়েছিল। তাঁর সাফ কথা, বিরোধী আসনে বসেই জনজাতিদের কল্যাণে লড়াই জারি রাখবে তিপরা মথা।