আগরতলা, ১ জানুয়ারী (হি. স.) : ত্রিপুরা কোভিডের টিকাকরণে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ইতিমধ্যে টিকাকরণে যোগ্য মোট জনসংখ্যার ৮২ শতাংশের দুইটি ডোজ নেওয়া হয়ে গেছে। তবুও, ৪ লক্ষাধিক ত্রিপুরাবাসী এখনো প্রথম ডোজ নিলেও টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেননি। আজ সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানিয়েছেন জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের ত্রিপুরার মিশন অধিকর্তা ডা: সিদ্ধার্থ জৈসয়াল। সাথে তিনি যোগ করেন, আগামী ৩ জানুয়ারী থেকে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের টিকাকরণ শুরু হবে। ইতিমধ্যে টিকাকরণের জন্য কোওইন পোর্টালে অনলাইন বুকিং শুরু হয়ে গেছে। এমনকি ১০ জানুয়ারী থেকে স্বাস্থ্য কর্মী, সামনের সারির যোদ্ধা এবং ষাটোর্ধ নাগরিকদের বোস্টার টিকা দেওয়া হবে।
এদিন ডা: জৈসয়াল বলেন, করোনার টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজের সময় হওয়া সত্বেও ৪ লক্ষাধিক ত্রিপুরার নাগরিক এখনো টিকাকরণ সম্পন্ন করেননি। তাঁর কথায়, ত্রিপুরায় ইতিমধ্যে ৪৬.৯৭ লক্ষ করোনার টিকার ডোজ দেওয়া হয়ে গেছে। তাতে, ২১ লক্ষ ২৮ হাজার নাগরিক টিকার দুইটি ডোজ নিয়েছেন। অথচ, টিকাকরণ ১০০ শতাংশ প্রদানে ১৮ বছরের উর্ধে যোগ্য ব্যক্তি রয়েছেন ২৫ লক্ষ ৬৯ হাজার জন। যা, মোট জনসংখ্যার ৮২ শতাংশ।
তিনি বলেন, টিকাকরণে অবশিষ্ট ১৮ শতাংশের খোজে স্বাস্থ্য কর্মীদের দল চেষ্টা চালিয়েছেন এবং টেলিফোনে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তাঁদের দ্বিতীয় ডোজ সুনিশ্চিত করার জন্য ওই উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাঁর দাবি, এখনো ৪ লক্ষ ৮ হাজার জনের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া বাকি রয়েছে। টিকাকরণ সম্পন্ন করতে স্বাস্থ্য কর্মীদের দল তাঁদের যোগাযোগের চেষ্টায় রয়েছেন।
তিনি জানান, নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী ১৫ থেকে ১৮ বছরের শিশুদের জন্য টিকাকরণে নাম নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। কোওইন পোর্টালে বুকিংয়ের মাধ্যমে তাঁরা কোভ্যাক্সিন টিকা নিতে পারবে। আগামী ৩ জানুয়ারী থেকে তাঁদের টিকা দেওয়া হবে। সাথে তিনি যোগ করেন, স্বাস্থ্য কর্মী, সামনের সারির যোদ্ধা এবং জটিল রোগে আক্রান্ত ষাটোর্ধ নাগরিকদের বোস্টার ডোজ দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ৩৯ সপ্তাহ পর তাঁরা ওই বোস্টার ডোজের সুযোগ নিতে পারবেন। তাঁর কথায়, ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী ২ লক্ষ ১৩ হাজার এবং এই মুহুর্তে বোস্টার ডোজ নেওয়ার জন্য যোগ্য রয়েছেন ৯১ হাজার ২০০ জন। সে মোতাবেক সারা ত্রিপুরায় ৩৫৪টি বিশেষ টিকাকরণ কেন্দ্র খোলা হবে, বলেন তিনি।
এদিন তিনি আবেদন জানান, করোনার প্রকোপ থেকে বাঁচতে টিকাকরণের সুযোগ নিন। সঠিক সময়ে টিকা নেওয়া হলে করোনা মোকাবিলা করা অনেকটাই সম্ভব হবে। তাঁর দাবি, কোভিডের টিকাকরণে অনলাইন এবং অফলাইনে নাম নথিভুক্ত করা যাবে। আধার অথবা স্কুলের আইডি কার্ডের সাহায্যে নথিভুক্ত সম্ভব হবে।



















