নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২০ নভেম্বর।। স্কুলের জন্য জমিদাতা পরিবারকে বঞ্চিত করে অন্যান্যদেরকে সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে কদমতলা স্কুলে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন ভূমি দাতা পরিবার। মিড ডে মিলের রাঁধুনির চাকরির দাবিতে স্কুলে তালা। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ ও স্কুল কমিটি। পরবর্তীতে ঘটনাটি মিমাংসার আশ্বাস দিলে তালা খুলে দেওয়া এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ঘটনা কদমতলা ব্লকাধীন দক্ষিণ কদমতলা এস বি স্কুলে।ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, উত্তর জেলার কদমতলা ব্লকাধীন দক্ষিণ কদমতলা এস বি স্কুল ১৯৯৬ সালে স্থাপিত হয়।তখন স্হানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা স্কুলটি স্থাপনের জন্য ভূমি দান করেছিলেন।তাদের মধ্যে মোবারাক আলীর পরিবারকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল তাদের পরিবারকে স্কুলে একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। পরিবারে কারুর উপযুক্ত যোগ্যতা না থাকায় তা আর হয়ে উঠেনি।বর্তমানে বিজেপি জোট সরকার গঠনের পর নতুন এসএমসি কমিটি গঠিত হয়।
কিছু দিন পূর্বে উক্ত স্কুলের জয়তুন নেছা নামের এক রাঁধুনি কাজ করবেন না বলে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে কাজ ছেড়ে দেন।তখন নতুন রাধুনী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করে স্কুল কমিটি। ঠিক তখন স্কুলের নামে জমি দানকারী মোবারক আলী স্হানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত ও স্কুল কমিটিকে তার পুত্রবধু সায়না বেগমকে রাঁধুনির কাজে নিযুক্ত করা প্রস্তাব রাখেন। পরবর্তীতে স্কুল কমিটি মিটিং বসে সিদ্ধান্ত হয় যে,যেহেতু জয়তুন নেছা নামে একজন রাঁধুনি কাজ ছেড়ে গিয়েছেন তাহলে উনার সাথে থাকা আরেকজন রাঁধুনি মমতা বেগম বয়স্ক হওয়ায় তাকেও বাধ দেওয়া হবে। সেই মোতাবেক এসএমসি কমিটির মিটিং এ সিদ্ধান্ত হয় নতুন দুজনকে নিয়োগ করা হবে। তাদের মধ্যে মোবারক আলীর পুত্রবধূ সায়না বেগম এবং একই এলাকার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগমের নাম সিদ্ধান্ত হয়। তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়া হয় স্কুল কমিটির পক্ষ থেকে। তারপর স্কুল কমিটি থেকে বলা হয় চলতি মাসের উনিশ নভেম্বর শুক্রবার থেকে তারা কাজে যোগ দিতে পারবে। কিন্তু দেখা যায় পঞ্চায়েতের মাধ্যমে মনোয়ারা বেগমের কাছে কাজে যোগ দেওয়ার বৈধ কাগজ আসলেও ভূমি দাতা মোবারক আলীর পুত্র বধূ সায়না বেগমের নামে লিখিত কোন কাগজপত্র আসেনি।
তথাপিও সায়না বেগম শুক্রবারে স্কুলের কাজে যোগ দেওয়ার জন্য দক্ষিণ কদমতলা এস বি স্কুলে আসেন।কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ সায়না বেগমকে কাজে নিতে অস্বীকার করেন।কারন সায়না বেগমের কাছে রাঁধুনির কাজে যোগদানের বৈধ কোন কাগজপত্র নেই। ঠিক তখন এসএমসি কমিটি থেকে বাদ দেওয়া বয়স্কা পুরাতন রাঁধুনি মমতা বেগম পুনরায় শুক্রবার থেকে কাজে যোগদান করেন।দেখা দেয় চরম বিড়ম্বনা। অবশেষে আজ সকাল বেলা ভূমি দাতা মোবারক আলীর পুত্র বধূ সায়না বেগম রাঁধুনির চাকরির দাবিতে উক্ত স্কুলের অফিস রুমে তালা ঝুলিয়ে দেন। ঘটনার খবর চাউর হতেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন কদমতলা থানার পুলিশ ও স্কুল কমিটি। ছুটে আসেন দক্ষিণ কদমতলা পঞ্চায়েত প্রতিনিধিগনও। দীর্ঘক্ষণ স্কুলের অফিস রুমে তালা বন্দি থাকার পর কদমতলা থানার পুলিশ ও স্হানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধি গন ভূমি দাতা মোবারক আলী ও তার পুত্র বধূকে আশ্বস্ত করেন যে, আগামী বুধবার স্কুল কমিটির সাথে আলোচনা ক্রমে ঘটনাটির মিমাংসা করবেন। তাদের আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়ে অফিস রুম তালা মুক্ত হলেও মোবারক আলী তীব্র ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বুধবারের ভেতর যদি এই সমস্যার নিরসন না হয় তাহলে স্কুলের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে পথ অবরোধে বসবেন। মিড ডে মিলের রাঁধুনির কাজ নিয়ে যে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে তা অবিলম্বে নিরসন করার জন্য এলাকার অভিভাবকদের তরফ থেকে দাবি জানানো হয়েছে।



















