আগরতলা, ২৬ আগস্ট : রাজ্যে মাদার টেরেসা-র জন্মদিন যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে অনুষ্ঠান হয় রাজধানী আগরতলা শহরে কুঞ্জবনে নির্মলা শিশু ভবনে। এখানে মাদার টেরেসা-র প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। মাদার টেরেসা-র জীবন আদর্শ নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়।
গরীব-আর্ত ও সর্বহারাদের সেবায় যিনি নিজেকে শেষ দিন পর্যন্ত নিয়োজিত করেছিলেন সেই অ্যাগনিস গঞ্জা বোজাঝিউকে সকলে স্বয়ং ঈশ্বরের দূত মনে করেন। যাদের সমাজে কোনো স্থান ছিলোনা, তাদের সযত্নে নিজের কোলে আশ্রয় দিয়েছিলেন আলবেনিয়া থেকে ভারতে আসা এই মহিয়সী নারী। দেখতে দেখতে তিনি পরে হয়ে ওঠেন সকলের প্রিয় মাদার টেরেসা। নিজের ছোটবেলা থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন সন্যাস নিয়ে গরীব-আর্তদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবেন। আর সেটা ভেবেই সুদূর আলবানিয়া ছেড়ে মানুষের সেবার টানে তিনি ভারতের কোলকাতায় চলে আসেন।
এই শহরকে তিনি গভীরভাবে ভালোবেসে ফেলেন আর এখানে আমৃত্যু থেকে গিয়ে কোলকাতাকে বিশ্বের বুকে তুলেও ধরেন তিনি। মাত্র ১২ বছর বয়সেই তিনি ধর্মীয় জীবন-যাপনের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন এবং ১৮ বছর বয়সে তিনি গৃহত্যাগ করে একজন মিশনারী হিসাবে যোগদান করেন সিস্টার্স অব লোরেটো সংস্থায়। সেদিন থেকে অ্যাগনিসের মা আর দিদিদের সাথে তাঁর আর কোনোদিন দেখা হয়নি। ১৯২৯ সালে ভারতের দার্জিলিংয়ে এসে নব দীক্ষিত হিসাবে তিনি সেখানকার একটি মিশনারীতে কাজ শুরু করেন এবং ১৯৩১ সালের ২৪ মে তিনি সন্যাসিনী হিসাবে প্রথম শপথ গ্রহণ করেন। সেইসময় তিনি মিশনারীদের পৃষ্টপোষক সন্ত টেরেসা দি লিসিয়াক্সের নামানুসারে টেরেসা নামটা গ্রহণ করেন। ১৯৩৭ সালের ১৪ মে পূর্ব কোলকাতার লরেটো কনভেন্ট স্কুলে পড়ানোর সময় তিনি নিজের মনে চূড়ান্ত শপথ গ্রহণ করেন এখানকার দীন-দরিদ্র মানুষদের বাকিটা জীবন সেবা করবেন। ১৯৫০-এর মন্নন্তরে শহরে নেমে আসে অবর্ণনীয় দুঃখ আর মৃত্যু। তাছাড়া এর আগে ১৯৪৬ সালের হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গাতেও ভারতের বহু নিরীহ মানুষ মারা যান। সেই থেকে এইসব ঘটনা টেরেসার মনে এক গভীর প্রভাব বিস্তার করে।
মাদার টেরেসা শহরের আর্তদের সেবা চালিয়ে যেতে থাকেন। কোলকাতা সহ আশপাশের শহরের দরিদ্র ও অনাথ শিশুদের তিনি নিজ কাছে টেনে নেন এবং তাদের সেবা করতে থাকেন স্নেহের সাথে। ক্ষুদার্থ,নগ্ন,গৃহহীন,আত্ম-নিপীড়িত, সর্বহারা ও সমাজ বর্জিত সকল মানুষদের পাশে তিনি দাড়ান পরম মমতাময় স্নেহের সাথে। মাদার টেরেসা দেহত্যাগ করেন ১৯৯৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। তাঁর অবদানকে আমরা সবাই সারাজীবন ধরে মনে রাখবো এবং তিনি সর্বদা আমাদের মনের ভিতর অমর হয়ে থাকবেন।

