আগরতলা, ২৫ সেপ্টেম্বর: ভারতের নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে ত্রিপুরায় আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করল পাঁচ বাম দল। শুক্রবার সন্ধ্যায় সিপিআই(এম)-এর রাজ্য দপ্তর দশরথ দেব ভবনে পাঁচ বাম দলের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন রাজ্য বামফ্রন্ট কমিটির আহ্বায়ক তথা সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মানিক দে। উপস্থিত ছিলেন সিপিআই-এর মিলন বৈদ্য, আরএসপি নেতা দীপক দেব, ফরওয়ার্ড ব্লকের রঘুনাথ সরকার এবং সিপিআই(এমএল)-লিবারেশনের স্বপন বণিক।
বৈঠক শেষে পাঁচ বাম দলের পক্ষ থেকে মানিক দে জানান, দেশব্যাপী আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ত্রিপুরাতেও সিপিআই(এম), সিপিআই, সিপিআই(এমএল)-লিবারেশন, ফরওয়ার্ড ব্লক ও আরএসপি যৌথভাবে আন্দোলনে নামবে। আগরতলাসহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।
পাঁচ বাম দলের ঘোষিত চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে অপসারণ, এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করা এবং অন্যায়ভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া সকলের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক কার্যপ্রণালী পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বর্তমান ব্যবস্থা পরিবর্তনের দাবিও জানানো হয়েছে। বাম দলগুলির প্রস্তাব, প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং ভারতের প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রস্তাবিত নির্বাচন কমিটির ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ব্যবস্থা করা হোক।
মানিক দে অভিযোগ করেন, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভোটার নথিভুক্তকরণ, নাম বাদ দেওয়া ও পুনর্বহাল এবং এসআইআর পরিচালনা সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার অন্তত ১৪ বার আপত্তি নথিভুক্ত করলেও তাঁদের সম্মতি ছাড়াই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছেন। তাঁর দাবি, এর ফলে নাগরিকদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বাম নেতৃত্ব গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি রাজ্যের সর্বস্তরের মানুষকে আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে, টেট উত্তীর্ণ শিক্ষক নিয়োগপ্রত্যাশী শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের উপর পুলিশের জলকামান প্রয়োগ, গ্রেফতার ও দমনমূলক পদক্ষেপেরও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে পাঁচ বাম দল। বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, রাজ্যে হাজার হাজার শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে টেট উত্তীর্ণদের নিয়োগ করা হচ্ছে না। চাকরির দাবিতে আন্দোলনরত টেট উত্তীর্ণদের উপর পুলিশি পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তাঁদের ন্যায্য দাবি পূরণের দাবি জানানো হয়েছে বৈঠক থেকে।
























