আগরতলা, ৭ সেপ্টেম্বর: রাজ্যের আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে বিজেপি, তিপ্রা মথা ও আইপিএফটি-র সমন্বয়ে গঠিত এনডিএ জোট ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ আসনে জয়ী হবে বলে আশা প্রকাশ করলেন বিজেপির প্রবীণ নেতা তথা বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথ। সোমবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রাজনীতিতে কোনও এলাকাই চিরস্থায়ীভাবে কোনও দলের ‘গড়’ বা ‘দুর্গ’ হয়ে থাকে না। জনগণের সামনে ইতিবাচক বিষয় তুলে ধরতে পারলে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যায়।
রতনলাল নাথ জানান, রাজ্যের ৫৮টি ব্লকের মধ্যে ৫২টি ব্লকে ভিলেজ কমিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মোট ৫৮৭টি গ্রামের ৪,৫৯৭টি আসনে এই নির্বাচন হবে। তাঁর কথায়, ভিলেজ কমিটি এবং ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচন অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া।
‘লাল দুর্গ’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একসময় উপজাতি অধ্যুষিত ২০টি বিধানসভা আসনের অধিকাংশই সিপিএমের দখলে থাকত। কিন্তু বর্তমানে সেই পরিস্থিতি আর নেই। ২০১৮ ও ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ওই ২০টি আসনের একটিতেও সিপিএম জয়ী হতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি।
এডিসি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিপ্রা মথা ও আইপিএফটির সঙ্গে আসন সমঝোতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আগের এডিসি নির্বাচনের ফলাফলকে ভিত্তি করেই দুই দলের সঙ্গে বোঝাপড়া করা হয়েছে। তিপ্রা মথার বিভিন্ন দাবি নিয়ে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের আসন ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর ১০-১২ ঘণ্টার মধ্যেই সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে বলে জানান রতনলাল নাথ। স্থানীয় স্তরে কোথাও সমস্যা হলে তা আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়ার জন্য দলীয় নেতৃত্বকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস, ৪,৫৯৭টি আসনের মধ্যে বিজেপি, তিপ্রা মথা ও আইপিএফটি মিলিয়ে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ আসন পাবে।”
মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষদিন ঘিরে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিশেষ আবেদনও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, শেষ মুহূর্তে মনোনয়নের চাপ বাড়বে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন কেন্দ্রে প্রবেশ করা প্রার্থীদের, সময় রাত ৮টা বা ১০টা পেরিয়ে গেলেও, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।
সিপিএমের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক সুরে রতনলাল নাথ বলেন, কয়েকটি এলাকায় মনোনয়ন জমা দিতে না পারার অভিযোগ তুলছে তারা। তাঁর দাবি, আসলে সিপিএম নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে যেতে চাইছে, কারণ জয়ের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই নির্বাচনে বিজেপি, তিপ্রা মথা ও আইপিএফটি আলাদা দল হিসেবে নয়, বরং এনডিএ জোটের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করবে। একই সঙ্গে নির্বাচনে জাতীয় বা রাজ্যস্তরের রাজনীতির পরিবর্তে স্থানীয় সমস্যাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পানীয় জলের সংকট, রাস্তার সমস্যা এবং সামাজিক ভাতা-সহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাগুলিই প্রচারের মূল বিষয় হবে বলে জানান তিনি।
কোথাও বিজেপির পরিবর্তে তিপ্রা মথা কিংবা তিপ্রা মথার পরিবর্তে বিজেপিকে আসন ছেড়ে দেওয়ার প্রয়োজন হলে স্থানীয় স্তরে আলোচনার মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব বলেও জানান রতনলাল নাথ। কল্যাণপুর ও রাইমাভ্যালিতে ইতিমধ্যে এমন আলোচনা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মনোনয়ন জমার শেষদিনের মধ্যেই বাকি সমস্যাগুলির সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।



















