কাঠমান্ডু, ২৭ আগস্ট (আইএএনএস): নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ১৬০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু এবং শত শত মানুষের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবার গভীর শোক প্রকাশ করে নেপালের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রনেতা। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ের পর ৩৯১ জন বিদেশি পর্যটক এবং ৯৩ জন নেপালি পর্যটকের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, দুর্গত এলাকায় থাকা অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে কর্মকর্তারা জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছেন। এই ঘটনায় অন্তত ৩৪ জন অস্ট্রেলিয়ান নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ অ্যালবানিজ জানান, দুর্গত এলাকায় থাকা অস্ট্রেলিয়ানদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পরামর্শ মেনে চলতে হবে। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও পর্যটন সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনে কনস্যুলার সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে, ২৪ জন কানাডিয়ান নাগরিক এখনও নিখোঁজ বলে জানা গেছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি পরিস্থিতির উপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখার কথা জানিয়ে দুর্গত এলাকায় থাকা কানাডিয়ান নাগরিকদের ‘রেজিস্ট্রেশন অব কানাডিয়ানস অ্যাব্রড’ ব্যবস্থায় দ্রুত নিজেদের নাম নথিভুক্ত করার আহ্বান জানান।
কার্নি বলেন, ভোতে কোশি নদীর আকস্মিক বন্যা অত্যন্ত বিপর্যয়কর। উদ্ধার অভিযান চলাকালীন কানাডা প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন পরিস্থিতিকে ‘হৃদয়বিদারক’ বলে উল্লেখ করেছেন। নেপালে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন এমন নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের বিষয়ে তাঁর সরকার নেপাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে জানান তিনি। বন্যার পর নিউজিল্যান্ডের পাঁচজন নাগরিকের এখনও খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
লাক্সন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, নেপাল ও চীনে আকস্মিক বন্যার ছবি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দুর্গত এলাকায় থাকা নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের সুযোগ পেলে পরিবার ও বন্ধুদের নিজেদের নিরাপত্তার খবর জানাতে এবং জরুরি প্রয়োজনে কনস্যুলার সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, ভয়াবহ বন্যার পর ১৯ জন মালয়েশিয়ান নাগরিকের এখনও সন্ধান মেলেনি। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম মৃত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, কাঠমান্ডুতে অবস্থিত মালয়েশিয়ার দূতাবাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত মালয়েশিয়ান নাগরিকদের সন্ধান এবং তাঁদের পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সরকার পুরোপুরি সক্রিয় থাকবে।
________


















