তেলিয়ামুড়া, ২৫ আগস্ট: স্বচ্ছ প্রশাসন এবং কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও তেলিয়ামুড়া মহকুমার তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের কার্যালয়কে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত বরিষ্ঠ তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক দুলাল দেববর্মার বিরুদ্ধে এক মহিলা কর্মীকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে হেনস্থা ও অপমান করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী হলেন দফতরের কালচারাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ভজনা বিশ্বাস।
ভজনা বিশ্বাসের অভিযোগ, দুলাল দেববর্মা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কর্মস্থলে তাঁকে বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ ও হেনস্থার মুখে পড়তে হচ্ছে। পরিস্থিতির জেরে তাঁকে ছুটিতেও যেতে হয় বলে দাবি তাঁর। ছুটি শেষে কাজে যোগ দিতে গিয়ে নতুন করে সমস্যার সম্মুখীন হন বলে অভিযোগ।
তাঁর দাবি, কাজে যোগ দেওয়ার পর দফতরের কর্মীরা তাঁর ‘জয়েনিং লেটার’ গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। পরে আগরতলায় সংশ্লিষ্ট দফতরের অধিকর্তার কার্যালয়ে ওই নথি জমা দিয়ে কাজে যোগ দেন তিনি।
এরপর মঙ্গলবার কর্মস্থলে গিয়ে আরও সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার অভিযোগ করেছেন ভজনা বিশ্বাস। তাঁর দাবি, দফতরে তাঁর ব্যবহারের টেবিল ও চেয়ার সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের নির্দেশেই গ্রুপ-ডি কর্মীরা টেবিল-চেয়ার সরিয়ে দেন। ফলে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁকে মাটিতে বসে কাজ করতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, কোনও সরকারি কর্মচারীর কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম পরিকাঠামো সরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আদৌ কোনও প্রশাসনিক নির্দেশ ছিল কি না। যদি থেকে থাকে, তবে সেই নির্দেশের লিখিত ভিত্তি কী—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এদিকে তেলিয়ামুড়া মহকুমাভিত্তিক স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনের অনুষ্ঠান নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন ভজনা বিশ্বাস। তাঁর দাবি, কালচারাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে তিনি বহাল থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত সেই দায়িত্ব অন্য এক কর্মীকে দেওয়া হয়।
অভিযোগকারীর দাবি, খোয়াইয়ের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরে ফোক আর্টিস্ট পদে কর্মরত টিনা দেবনাথকে তেলিয়ামুড়ায় এনে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তেলিয়ামুড়া দফতরের কর্মীকে বাদ দিয়ে অন্য মহকুমার একজন কর্মীকে কেন এই দায়িত্ব দেওয়া হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে এ বিষয়ে কোনও লিখিত প্রশাসনিক নির্দেশ বা অনুমোদন রয়েছে কি না, সেটিও প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন ভজনা বিশ্বাস।
তবে অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি অভিযুক্ত আধিকারিক দুলাল দেববর্মার বক্তব্যও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেলিয়ামুড়ার প্রশাসনিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। একজন মহিলা সরকারি কর্মচারীর সঙ্গে কর্মস্থলে এমন আচরণের অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি গুরুতর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।
তাঁদের দাবি, অভিযোগকারী কর্মী, অভিযুক্ত আধিকারিক এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের নথিপত্র খতিয়ে দেখে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।
কারণ, এই বিতর্কের কেন্দ্রে শুধু একজন আধিকারিক বা একজন কর্মচারী নন—সরকারি কর্মস্থলে কর্মীদের মর্যাদা, নিরাপদ পরিবেশ এবং স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালনের অধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্নটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
























