লখনউ, ২৪ আগস্ট (আইএএনএস): অযোধ্যায় মাছের ভোজ নিয়ে বিতর্কের জেরে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রাই। তিনি দাবি করেন, তিনি আমিষ খাবার খেয়েছেন—এমন প্রমাণ মুখ্যমন্ত্রীকে দিতে হবে। তা না পারলে যোগী আদিত্যনাথকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অজয় রাই বলেন, “প্রমাণ দিন। তিনি যা দাবি করছেন, তা প্রমাণ করতে পারলে আমি রাজনীতি থেকে ইস্তফা দেব। না হলে তাঁকেই পদত্যাগ করতে হবে।”
রাইয়ের দাবি, অনুষ্ঠানটি নিষাদ সম্প্রদায়ের সদস্যরা আয়োজন করেছিলেন এবং মাছ তাদের ঐতিহ্যবাহী খাদ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।
অযোধ্যার একটি ব্যাঙ্কোয়েট হলে মাছ রান্না করার একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত। ওই অনুষ্ঠানে অজয় রাই উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়। পবিত্র শ্রাবণ মাসে হিন্দুদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান অযোধ্যায় আমিষ খাবার আয়োজন নিয়ে একাধিক ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও বিজেপি নেতা আপত্তি জানান।
নিজের উপস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে রাই বলেন, কংগ্রেস নেতারা একটি কর্মসূচি শেষে মন্দিরে গিয়ে দর্শন করেছিলেন। এরপর নিষাদ সম্প্রদায়ের নেতা রাম নিহাল নিষাদ তাঁদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান। তাঁর বক্তব্য, ওই সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য অনুযায়ী অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য মাছ রান্না করা হয়েছিল।
আইএএনএস-কে রাই বলেন, তাঁরা সকলেই মন্দিরে গিয়ে দর্শন করেছিলেন এবং এরপর রাম নিহাল নিষাদ আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তিনি বলেন, কী রান্না করা হচ্ছে বা কী পরিবেশন করা হচ্ছে, তা আয়োজকের বিষয়। নিষাদ সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই ওই খাবার তৈরি করা হয়েছিল।
বিজেপির অভিযোগের জবাব দিতে নিজের জনেউ বা পৈতে প্রদর্শন করেন রাই। ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিজেপির দাবিরও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, কিছু নেতা শুধুমাত্র মানুষকে বিভ্রান্ত করতে গেরুয়া পোশাক ও ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করেন।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ অজয় রাইকে নিশানা করে বলেন, কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতি হনুমানগড়িতে দর্শন করার পর বাইরে গিয়ে মাছের ভোজে অংশ নিয়েছেন। তিনি এই ঘটনাকে কংগ্রেসের দ্বিচারিতা বলে কটাক্ষ করেন।
যোগী বলেন, “রাম রাম জপতে থাকে, অথচ এমন কাজ করে—লজ্জারও একটা সীমা আছে।” তাঁর অভিযোগ, অযোধ্যার মতো পবিত্র স্থানে গিয়ে এমন কর্মকাণ্ড কংগ্রেসের মানসিকতা ও দ্বিচারিতাকে প্রকাশ করে।
এদিকে বিজেপিও এই ইস্যুতে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক বলেন, শ্রাবণ মাসে অযোধ্যাধামে এই ধরনের ভোজের আয়োজন অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁর মতে, অযোধ্যা ভগবান রামলালার পবিত্র ভূমি এবং এই ধরনের আয়োজন কংগ্রেসের সংস্কৃতির প্রতিফলন।
উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী সঞ্জয় নিষাদও কংগ্রেসকে নিশানা করেন। তিনি বলেন, মাছ খাওয়া নিষাদ সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যের অংশ এবং এই সম্প্রদায়ের দারিদ্র্য ও শিক্ষার সমস্যা নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত।
বিজেপি মুখপাত্র প্রতুল শাহদেও আরও তীব্র আক্রমণ করে বলেন, শ্রাবণ মাসে মাছ খাওয়ার আয়োজন সনাতন ধর্মীয় ভাবাবেগকে আঘাত করেছে। তাঁর দাবি, কংগ্রেস বারবার সনাতন ঐতিহ্যকে অপমান করেছে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “সাহস থাকলে মক্কা ও মদিনায় গিয়ে নিষিদ্ধ খাবার খান।”
বিজেপির আক্রমণের জবাবে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক দলগুলি কি মানুষের ব্যক্তিগত খাবারের পছন্দ নির্ধারণ করতে পারে? তিনি বলেন, অনুষ্ঠানটির আয়োজক রাম নিহাল নিষাদ সম্প্রতি বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। তাঁর বাড়ি বা অনুষ্ঠানে কী রান্না হবে, তা নির্ধারণ করার অধিকার অন্য কারও নেই।
খেরা দাবি করেন, অজয় রাই নিরামিষভোজী। তবে কেউ কী খাবেন বা খাবেন না, সেই সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। নিষাদ সম্প্রদায়ের মানুষ মাছ খেলে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা অন্য কোনও সংগঠন তা নির্ধারণ করতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কংগ্রেস মুখপাত্র সুরেন্দ্র রাজপুতও বিজেপির বিরুদ্ধে নিষাদ সম্প্রদায়কে অপমান করার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, নিষাদরাজের বংশধররা ভগবান রামের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তাঁদের ঐতিহ্য অনুযায়ী অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য এই ভোজের আয়োজন করা হয়েছিল।
রবিবার অযোধ্যায় গিয়ে অজয় রাই শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দির ও হনুমানগড়ি দর্শন করেন এবং হনুমান চালিসা পাঠ করেন। পরে তরুণ এলাকায় আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে রাজ্য কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজপাল গৌতম, জাতীয় মুখপাত্র অখিলেশ প্রতাপ সিং এবং পূর্বাঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অভিষেক দত্তও উপস্থিত ছিলেন।
রাম নিহাল নিষাদের কংগ্রেসে যোগদান উপলক্ষে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। সেই খাবারের আয়োজন নিয়েই বর্তমানে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়েছে।



















