নয়াদিল্লি, ২১ আগস্ট(আইএএনএস) : ছাত্র বিক্ষোভে পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগে আহত সাহিল লোচাবের হয়ে নতুন করে এফআইআর দায়েরের দাবিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ধর্নার পাশে দাঁড়ালেন কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষ নেতা। শুক্রবার দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশের দফতরের সামনে রাহুল গান্ধীর অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ধর্নায় যোগ দেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। গত মাসে যন্তর মন্তরে শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশি পদক্ষেপে সাহিল লোচাব পেলেট গানে আহত হন বলে কংগ্রেসের দাবি। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন করে এফআইআর দায়েরের দাবিতেই এই অবস্থান কর্মসূচি।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ বলেন, সাহিল লোচাবের আইনজীবী এফআইআর দায়েরের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এটি কোনও সাধারণ এফআইআর নয়, বরং ছাত্রটির বিরুদ্ধে পুলিশের কথিত বেআইনি পদক্ষেপ এবং পেলেট গান ব্যবহারের ঘটনা নিয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়েরের দাবি।
জয়রাম রমেশ বলেন, এখনও তাঁদের দাবি মেনে নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আলোচনা চলছে বলে মনে করা হলেও তাঁদের কাছে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তাঁর কথায়, রাহুল গান্ধী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নতুন এফআইআর দায়ের করে তার নম্বর না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা ঘটনাস্থল ছাড়বেন না।
তিনি আরও জানান, গত ২০ জুলাই সংসদ মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশের কথিত পদক্ষেপ নিয়ে একটি সাধারণ এফআইআর ইতিমধ্যেই দায়ের হয়েছে। তবে পেলেট গানে আহত ছাত্রের জন্য আলাদা একটি নতুন এফআইআর চাওয়া হয়েছে।
বিজেপি বিষয়টিকে মেরুকরণের দৃষ্টিতে দেখছে বলেও অভিযোগ করেন জয়রাম রমেশ। তাঁর দাবি, এই ধরনের অবস্থান সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং নিন্দনীয়।
ধর্নায় অংশ নেন কংগ্রেস সাংসদ কিশোরীলাল শর্মাও। আইএএনএসকে তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জাজনক। তাঁর মতে, কোনও সাধারণ নাগরিকের সঙ্গে অন্যায় হলে এফআইআর দায়ের করা তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু সেই অভিযোগও নথিভুক্ত করা হচ্ছে না।
কিশোরীলাল শর্মা প্রশ্ন তোলেন, এফআইআর ছাড়া কীভাবে তদন্ত হবে? তিনি আরও জানতে চান, পেলেট গান ব্যবহারের নির্দেশ কে দিয়েছিল, সেই সত্য সামনে আসার বিষয়ে সরকার কেন ভয় পাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে আসেননি এবং এফআইআরও দায়ের করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কংগ্রেস নেতা মুকুল ওয়াসনিকও ধর্নাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ছাত্রদের উপর পেলেট গান চালানোর নির্দেশ কে দিয়েছিল, সেই সত্য সরকারকে প্রকাশ করতেই হবে। সেই দাবিতে তাঁদের লড়াই চলবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে উত্তরপ্রদেশে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কংগ্রেস সাংসদ প্রমোদ তিওয়ারি বলেন, রাহুল গান্ধী একজন নির্যাতিতের অধিকার সুরক্ষিত করতেই থানায় গিয়েছেন। তাঁর দাবি, ২০ জুলাইয়ের ঘটনার এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও এফআইআর দায়ের হয়নি।
প্রমোদ তিওয়ারি বলেন, ভারতীয় আইনে কোনও ঘটনার শিকার ব্যক্তির এফআইআর দায়ের করার অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার নিশ্চিত করতেই রাহুল গান্ধী থানায় গিয়েছেন এবং এই লড়াইয়ে কংগ্রেস তাঁর পাশে রয়েছে। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার অভিযুক্তদের আড়াল করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রাজস্থান থেকে কংগ্রেস নেতা সচিন পাইলটও রাহুল গান্ধীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, পেলেট গানে আহত যুবকদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাহুল গান্ধী সবরকম চেষ্টা করছেন। তাঁর মতে, প্রত্যেকেরই ন্যায়বিচার চাওয়ার অধিকার রয়েছে।



















