নয়াদিল্লি, ১৫ আগস্ট (আইএএনএস): ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে শনিবার দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার প্রাচীর থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে দেশকে ছোট স্বপ্নে সীমাবদ্ধ না রেখে বড় লক্ষ্য নির্ধারণের আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর ২১ বার তোপধ্বনি এবং হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টির মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবসের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। ভাষণের শুরুতেই জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’ ও তেরঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে স্বাধীনতার জন্য আত্মবলিদান দেওয়া সংগ্রামীদের শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ প্রতিটি হৃদস্পন্দনে বন্দে মাতরমের প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে, আজ প্রতিটি ঘরে তেরঙ্গা।” স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করা মহান ব্যক্তিদের স্মরণ করে তিনি মহাত্মা গান্ধী-সহ সমস্ত স্বাধীনতা সংগ্রামীকে শ্রদ্ধা জানান।
এবারের স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ তাৎপর্য তুলে ধরে মোদি বলেন, স্বাধীনতার পর এই প্রথম ১৫ আগস্ট লালকেল্লা থেকে ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনিত হচ্ছে। জাতীয় সঙ্গীতটির ১৫০ বছর পূর্তির সঙ্গে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের যোগসূত্রের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সাম্প্রতিক বন্যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের প্রতিও সংহতি প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। বন্যায় প্রাণ হারানোদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, বিপর্যস্ত মানুষের পাশে গোটা দেশ রয়েছে এবং তাঁদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
দেশের উন্নয়নে বড় লক্ষ্য, সক্ষমতা ও দৃঢ় সংকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনও দেশ তার সক্ষমতা ও লক্ষ্য পূরণের শক্তিতেই মহান হয়ে ওঠে। তাই ছোট স্বপ্ন দেখলে চলবে না, বড় স্বপ্ন দেখতে হবে। বড় স্বপ্নই উন্নয়নের গতি বাড়ায়। সংকল্প দৃঢ় হলে সম্ভাবনার নতুন পথ খুলে যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মোদি বলেন, ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার বড় স্বপ্ন দেখেছে। স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তির সময় ১৪০ কোটি ভারতবাসীর অবদান, প্রচেষ্টা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই লক্ষ্য পূরণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, একটি দেশ কত বড় স্বপ্ন দেখছে, তার ওপর বিশ্বে সেই দেশের অবস্থান ও ভাবমূর্তিও অনেকাংশে নির্ভর করে। ভারতের বড় স্বপ্নই বিশ্বকে ভারতের দিকে নতুন দৃষ্টিতে তাকাতে বাধ্য করবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
লালকেল্লা থেকে এদিন প্রধানমন্ত্রীর টানা ১৩তম স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ। এর মাধ্যমে অ-কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে লালকেল্লা থেকে টানা স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছেন তিনি।
এবারের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের মূল বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য পূরণে দেশের ‘যুব শক্তি’র ভূমিকা।
–আইএএনএস
























