ইম্ফল, ১৩ আগস্ট (আইএএনএস): মণিপুরের বিভিন্ন জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় যৌথ অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। তাঁদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গুলি, নথি ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, কাকচিং, ইম্ফল পশ্চিম ও থৌবাল জেলায় মণিপুর পুলিশ এবং অসম রাইফেলস-সহ কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথভাবে এই অভিযান চালায়।
গ্রেফতার হওয়া জঙ্গিরা নিষিদ্ধ কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টি, পিপলস লিবারেশন আর্মি-এর রাজনৈতিক শাখা রেভলিউশনারি পিপলস ফ্রন্ট, কাংলেই ইয়াওল কান্না লুপ এবং ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মি-র সঙ্গে যুক্ত বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অপহরণ, জোর করে ‘সাবস্ক্রিপশন’ আদায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠনে যুবকদের নিয়োগের মতো বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন নিষিদ্ধ সংগঠনের নথি, চাঁদা আদায়ের রসিদ, নগদ টাকা, সিল, লেটারহেড এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করেছে। গ্রেফতার হওয়া দুই ইউকেএনএ সদস্যের কাছ থেকে একটি একে সিরিজের রাইফেল ও ম্যাগাজিন, ৭.৬২ মিমি ক্যালিবারের ১২ রাউন্ড গুলি, একটি ৯ মিমি পিস্তল ও ম্যাগাজিন, একটি বাওফেং রেডিও সেট এবং একটি রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে, সেনাপতি জেলার একটি উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় পৃথক অভিযানে পাঁচটি সিঙ্গল-ব্যারেল ব্রিচ-লোডিং বন্দুক, একটি ৯ মিমি পিস্তল, দুটি চিনা হ্যান্ড গ্রেনেড, বিভিন্ন ক্যালিবারের ১৩ রাউন্ড গুলি এবং ৩৩টি খালি কার্তুজের খোল উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
এর পাশাপাশি, বুধবার মণিপুরের বিষ্ণুপুর জেলায় একটি বাড়িতে আইইডি হামলার ঘটনায় এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। গত ৭ এপ্রিল ময়রাংয়ের ত্রোংলাওবি আওয়াং লেইকাই এলাকায় ওই হামলায় দুই শিশু নিহত এবং তাঁদের মা গুরুতর আহত হয়েছিলেন। নিহতদের মধ্যে ছিল পাঁচ বছরের এক ছেলে এবং ছয় মাসের এক শিশু কন্যা।
এনআইএ-র হাতে গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তের নাম এস পালাল কুকি। তিনি চুরাচাঁদপুর জেলার ওল্ড গেলমোল গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে ইউকেএনএ-র স্বঘোষিত ‘ফিনান্স হেড’ বলে স্বীকার করেছেন।
এদিকে, মণিপুরজুড়ে জঙ্গিবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করেছে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং মণিপুর পুলিশ। স্পর্শকাতর, মিশ্র জনবসতিপূর্ণ ও প্রান্তিক এলাকায় তল্লাশি এবং এরিয়া ডমিনেশন অভিযান চলছে। জঙ্গি, অসামাজিক ব্যক্তি ও সন্দেহজনক যানবাহনের গতিবিধি নজরে রাখতে উপত্যকা ও পাহাড়ি জেলাগুলিতে মোট ১১১টি নাকা ও চেকপয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ইম্ফল-জিরিবাম জাতীয় সড়ক দিয়ে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বহনকারী ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সশস্ত্র এসকর্ট দেওয়া হচ্ছে। সড়কের স্পর্শকাতর অংশগুলিতে কড়া নিরাপত্তা ও কনভয় সুরক্ষা অব্যাহত রয়েছে।



















