গুয়াহাটি, ১৩ আগস্ট (আইএএনএস): অসম ও অরুণাচল প্রদেশের সম্পর্ক রাজ্যের সীমানার ঊর্ধ্বে এবং দুই রাজ্য সরকার পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আলোচনার মাধ্যমে অবশিষ্ট সীমান্ত বিরোধ মেটাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। বৃহস্পতিবার এক্স-এ পোস্ট করে তিনি দুই রাজ্যের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অসম ও অরুণাচলের মানুষ ভাই-বোনের মতো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন। এই সম্পর্কের ভিত্তি হল ভালোবাসা, স্নেহ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত কয়েক বছরে দুই প্রতিবেশী রাজ্যের দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ মেটানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। দুই সরকারের মধ্যে আলোচনা ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের মাধ্যমে অধিকাংশ মতপার্থক্য ইতিমধ্যেই মিটিয়ে ফেলা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে মাত্র ৫২টি গ্রাম নিয়ে বিরোধ রয়েছে এবং আলোচনার একই পরিবেশ বজায় রেখে এই সমস্যাগুলিও সম্পূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাবে দুই সরকার।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী দুই রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আবেদন জানান। তাঁর কথায়, রাজ্যের সীমানা প্রশাসনিক বিভাজন তৈরি করতে পারে, কিন্তু তা দুই রাজ্যের মানুষের হৃদয়ের সম্পর্ককে কখনও ভাগ করতে পারে না।
অসম ও অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত বিরোধ উত্তর-পূর্ব ভারতের দীর্ঘদিনের আন্তঃরাজ্য সীমান্ত সমস্যাগুলির অন্যতম। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দুই রাজ্যই প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ও আলোচনার মাধ্যমে এই বিরোধ মেটানোর উদ্যোগ জোরদার করেছে।
দুই রাজ্য সরকারই বারবার জানিয়েছে, সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতাই সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুই রাজ্যের মানুষের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক অটুট রাখার মূল চাবিকাঠি।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সর্বশেষ বক্তব্যে অবশিষ্ট মতপার্থক্য মেটাতে আলোচনার পথেই অসম সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়টি ফের স্পষ্ট হয়েছে। একইসঙ্গে সীমান্তবর্তী জেলার মানুষকে এমন কোনও পদক্ষেপ বা মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আবেদন জানানো হয়েছে, যা শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে পারে।
দুই প্রতিবেশী রাজ্যের মধ্যে একটি সর্বাঙ্গীন ও পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
— আইএএনএস



















