আগরতলা, ১১ ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন—মাত্র ছয় মাসে ত্রিপুরায় মোট ৩ লক্ষ ৯৩ হাজার ৮৭৭ জন পর্যটক এসেছেন। এর মধ্যে দেশীয় পর্যটকের সংখ্যা ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার ৪৫৩ জন এবং বিদেশি পর্যটক ৯ হাজার ৪২৪ জন। সোমবার লোকসভায় এই তথ্য জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত।
কেন্দ্রের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ত্রিপুরার পর্যটন ক্ষেত্রে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। রাজ্যের পর্যটন ব্যবস্থায় আগরতলা গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। আগরতলাকে কেন্দ্র করে পর্যটকরা উদয়পুর, নীরমহল, সিপাহিজলা, ঊনকোটি ও ছবিমুড়ার মতো বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ করছেন।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পর্যটনকেন্দ্র ও স্থানীয় পণ্যকে দেশ-বিদেশে তুলে ধরতে কেন্দ্রের তরফে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রদর্শনী, মেলা, উৎসব, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পর্যটনকে আরও জনপ্রিয় করার চেষ্টা চলছে।
২০১৩ সাল থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনাকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরতে পর্যটন মন্ত্রকের উদ্যোগে ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম মার্ট আয়োজন করা হচ্ছে। এই বার্ষিক আয়োজনে উত্তর-পূর্ব ভারতের আট রাজ্যের পর্যটন দফতর, উদ্যোক্তা, ক্রেতা-বিক্রেতা, সরকারি সংস্থা এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সর্বশেষ ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম মার্ট অনুষ্ঠিত হয় ২০২৫ সালের ১৩ থেকে ১৬ নভেম্বর সিকিমের গ্যাংটকে।
ত্রিপুরার পর্যটন উৎসবগুলিকেও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে কেন্দ্র। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পর্যটন সংক্রান্ত মেলা ও উৎসব আয়োজনের জন্য ত্রিপুরাকে ৮০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নীরমহল উৎসবের জন্য ৩০ লক্ষ টাকা, দীপাবলি উৎসবের জন্য ৩০ লক্ষ টাকা এবং ছবিমুড়া ও তীর্থমুখ উৎসবের জন্য ২০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
এছাড়াও ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম-এর মাধ্যমে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রকে তুলে ধরা হচ্ছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নতুনভাবে সাজানো এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একাধিক ভাষায় পর্যটন সংক্রান্ত তথ্য ও বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হচ্ছে।
পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়নেও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বদেশ দর্শন ২.০, প্রসাদ, এসএএসসিআই এবং চ্যালেঞ্জ বেইজড ডেস্টিনেশন ডেভলপমেন্ট। স্বদেশ দর্শন ২.০ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল নির্দিষ্ট পর্যটনকেন্দ্রকে ভিত্তি করে টেকসই ও দায়িত্বশীল পর্যটন ব্যবস্থার বিকাশ ঘটানো।
আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আরসিএস – উড়ান প্রকল্পের আওতায় আগরতলা-আইজল এবং আইজল-আগরতলার মতো পর্যটনমুখী বিমান পরিষেবার মাধ্যমে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনের ওপরও জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। স্বচ্ছতা অ্যাকশন প্ল্যান, স্বচ্ছতা পক্ষ এবং স্বচ্ছতা হি সেবা-র মতো কর্মসূচির মাধ্যমে পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে পরিচ্ছন্নতা ও টেকসই পর্যটন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। মাত্র ছয় মাসে প্রায় চার লক্ষ পর্যটকের আগমন ত্রিপুরার পর্যটন ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। পর্যটনকেন্দ্রগুলির উন্নয়নের পাশাপাশি আগরতলাকে রাজ্যের পর্যটন ও যোগাযোগের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী করার ওপর আগামী দিনে গুরুত্ব বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।



















