News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • জলবদ্ধতা মোকাবিলায় আগরতলায় ১৩০ কোটি টাকার প্রকল্প, ১৫–৩০ মিনিটে জল নিষ্কাশনের লক্ষ্য
Image

জলবদ্ধতা মোকাবিলায় আগরতলায় ১৩০ কোটি টাকার প্রকল্প, ১৫–৩০ মিনিটে জল নিষ্কাশনের লক্ষ্য

আগরতলা, ১১ আগস্ট: বর্ষার সময় জলবদ্ধতার সমস্যা মোকাবিলায় আগরতলা শহরের নিকাশি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বড়সড় পরিকল্পনা নিয়েছে আগরতলা পুর নিগম। শহরের স্টর্ম-ওয়াটার ড্রেনেজ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রায় ১৩০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বৃষ্টির জল জমে যাওয়ার সমস্যা কমানোর পাশাপাশি জল নিষ্কাশনের সময় বর্তমানের প্রায় এক থেকে দুই ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ১৫ থেকে ৩০ মিনিটে নিয়ে আসার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি আগরতলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় জল জমে যাওয়ার প্রসঙ্গে পুর নিগমের কমিশনার সাজু ভাহিদ এ জানান, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে শহরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা জল জমার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। পুর নিগমের তৈরি  ডিজিটাল এলিভেশন ম্যাপ এবং জলবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিতকরণ সমীক্ষায় এই এলাকাগুলিতে সবচেয়ে নিচু অংশ এবং জল জমার প্রধান স্থানগুলি চিহ্নিত হয়েছে।

বর্তমানে শহরে ১৭টি সচল পাম্পিং স্টেশন রয়েছে। প্রতিটি স্টেশনে বৈদ্যুতিক পাম্পের পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হলেও যাতে জল নিষ্কাশন করা যায়, সেজন্য বনমালীপুর, ওরিয়েন্ট চৌমুহনী, পূর্ব থানার এলাকা, প্যারাডাইস চৌমুহনী, গণরাজ এবং আইজিএম—এই ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মেকানিক্যাল পাম্পও রয়েছে।

পুর কমিশনার জানান, সাধারণত ঘণ্টায় প্রায় ৩৮–৪০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জল জমার প্রবণতা বাড়ে। বিশেষ করে এক থেকে দুই ঘণ্টা ধরে একটানা ভারী বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক সময়ে ২১ জুন প্রায় ৭৭ মিলিমিটার, ৭ জুলাই ১০১ মিলিমিটার এবং কয়েকদিন আগে প্রায় দেড় ঘণ্টার মধ্যে ৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ইতিমধ্যেই একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গণরাজ এলাকায় অতিরিক্ত একটি পাম্প বসানোর পাশাপাশি ৬০০ মিলিমিটার ব্যাসের পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। শকুন্তলা রোড, সৎসঙ্গ এলাকা এবং রামনগর-৪-এ নতুন পাম্পিং স্টেশন তৈরির কাজ চলছে। এছাড়া ওরিয়েন্ট চৌমুহনী ও প্যারাডাইস চৌমুহনী এলাকায় জমে থাকা বৃষ্টির জল সংগ্রহ ও পাম্পের মাধ্যমে নিষ্কাশনের জন্য আন্ডারগ্রাউন্ড সাম্প তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

পুর কমিশনার জানান, স্টর্ম-ওয়াটার ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক -এর কাছে একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছে আগরতলা পুর নিগম। এই প্রকল্পের আওতায় বর্তমান পাম্পিং স্টেশনগুলির সক্ষমতা বাড়ানো, পাইপলাইন নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা এবং নতুন সাম্প ও জলাধার তৈরি করা হবে।

নগর উন্নয়ন দফতরের সচিব ড. মিলিন্দ রামটেকে জানান, গত প্রায় দুই দশক ধরে আগরতলার জলবদ্ধতা মোকাবিলায় ধাপে ধাপে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। প্রস্তাবিত এডিবি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শহরে পাম্পের সংখ্যা ও ক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি এসসিএডিএ -ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করা হবে, যার মাধ্যমে জলস্তর নির্দিষ্টসীমার উপরে উঠলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাম্প চালু হয়ে যাবে।

তিনি জানান, আগরতলার সামগ্রিক এডিবি -নির্ভর পরিকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচির আনুমানিক ব্যয় প্রায় ১,২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৫০০–৬০০ কোটি টাকা স্টর্ম-ওয়াটার ড্রেনেজ সংক্রান্ত কাজের জন্য বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৭০–৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কালাপানিয়া খালকে আরসিসি দিয়ে আবৃত করা এবং খালটি আরও গভীর করার প্রস্তাব রয়েছে।

শহরের জলাশয়গুলিকেও প্রাকৃতিক বন্যা-নিয়ন্ত্রণ ও জল সংরক্ষণের আধার হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। ড. রামটেকে জানান, আগরতলা ও সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৫৫টি জলাশয় সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশগত বিষয়গুলি বিবেচনায় রেখে নির্দিষ্ট কিছু জলাশয়ের তলদেশ থেকে দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত পলি অপসারণেরও প্রস্তাব রয়েছে।
এছাড়াও হাওড়া ও কাটাখাল নদীর জলপ্রবাহ ও জলবিদ্যার ওপর দীর্ঘমেয়াদি সমীক্ষা শুরু করা হচ্ছে। নদীর বাঁধ, ব্যারেজ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য ব্যবস্থা নিয়ে একটি বিস্তৃত প্রজেক্ট রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে। প্রয়োজনে এই প্রকল্পে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে, আগরতলা স্মার্ট সিটি লিমিটেডের সিইও ড. জি.এস. নায়ক জানান, শহরের ২৩ কিলোমিটার স্মার্ট রোড প্রকল্পের কাজ উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি যেখানে প্রায় ২০–২৫ শতাংশ ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে।
স্মার্ট রোড প্রকল্পের আওতায় রাস্তার পাশে স্টর্ম-ওয়াটার ড্রেন তৈরির কাজ প্রায় ৯৯ শতাংশ সম্পূর্ণ হয়েছে। পরিকল্পিত ৪৬ কিলোমিটার ড্রেনের মধ্যে প্রায় ৪৫.৫ কিলোমিটার ইতিমধ্যেই নির্মাণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে বারবার রাস্তা খুঁড়ে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিষেবা সংক্রান্ত কাজ করতে না হয়, সেজন্য ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক ও অন্যান্য ইউটিলিটি নেটওয়ার্কও তৈরি করা হচ্ছে।

তবে ভারী বৃষ্টি, অপরিকল্পিত ভূগর্ভস্থ ইউটিলিটি এবং অসমে বন্যার কারণে নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহে বিঘ্ন—এই কয়েকটি কারণে রাস্তার কাজের গতি কিছুটা ব্যাহত হয়েছে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন। পুজোর আগে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিকে চলাচলের উপযোগী করে তোলার চেষ্টা চলছে।

আগামীদিনে শহরের পানীয় জল সরবরাহ পরিকাঠামোর উন্নয়নেও এডিবি -র প্রকল্পের মাধ্যমে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পুরনো পাইপলাইন পরিবর্তন, জল মিটার স্থাপন, নতুন পাইপলাইন, জল শোধনাগার এবং জল সংগ্রহের পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। ধাপে ধাপে এএমসি -র বাকি এলাকাগুলিতেও মিটারভিত্তিক পানীয় জল সরবরাহ চালুর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পুর নিগম ও প্রশাসনের দাবি, জল নিষ্কাশন, সড়ক, গণপরিবহন, পানীয় জল এবং পরিবেশ—সব ক্ষেত্রকে একসঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে আগরতলাকে আরও পরিকাঠামোগতভাবে শক্তিশালী, সংযুক্ত এবং পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলাই এই সমস্ত প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

Releated Posts

রাজ্যে যে নাস্তিকতার পরিবেশ ছিল, তা পরিবর্তন করে আমরা আস্তিকতার পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছি: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১৩ সেপ্টেম্বর: রাজ্যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের পরিবর্তন হয়েছে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ড. মানিক সাহা।…

ByByReshmi Debnath Sep 13, 2026

জাতীয় স্তরেও সম্মানের সঙ্গে ব্যবহৃত হচ্ছে ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী রিসা

আগরতলা, ১৩ সেপ্টেম্বর: ত্রিপুরার জনজাতিদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত রিসা এবার জাতীয় স্তরেও সম্মানের সঙ্গে অতিথি…

ByByReshmi Debnath Sep 13, 2026

আগরতলায় বিএসএফ ও রোটারি ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে ‘সঞ্জীবনী-৩’, উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১৩ সেপ্টেম্বর: সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনকল্যাণকে সামনে রেখে আগরতলায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এবং রোটারি ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে…

ByByReshmi Debnath Sep 13, 2026

দুই জনজাতি যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে উত্তেজনা

তেলিয়ামুড়া, ১৩ সেপ্টেম্বর: দুই জনজাতি যুবকের মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়ায় তেলিয়ামুড়া…

ByByReshmi Debnath Sep 13, 2026
Scroll to Top