আগরতলা, ১১ আগস্ট: স্মার্ট মিটার বাতিল, অস্বাভাবিক হারে বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি এবং রিচার্জ সংক্রান্ত নানা অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গতকাল দিনভর উত্তাল হয়ে উঠল কুমারঘাট মহকুমার ফটিকরায় বিধানসভার কাঞ্চনবাড়ি বিদ্যুৎ দপ্তর। সকাল ১০টা থেকে কাঞ্চনবাড়ি ও সংলগ্ন এলাকার সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের পাশাপাশি স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে শামিল হন স্থানীয় ব্যাটারিচালিত গাড়ি ও ই-রিকশা চালকরাও।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নতুন স্মার্ট মিটার বসানোর পর থেকেই অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে মিটারের টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে মিটার রেন্ট, ফিক্সড চার্জ-সহ বিভিন্ন অতিরিক্ত চার্জের বোঝাও চাপছে গ্রাহকদের ওপর। ফলে দিন আনা দিন খাওয়া সাধারণ মানুষ এবং ব্যাটারিচালিত গাড়ি ও ই-রিকশা চালকেরা আর্থিক সমস্যার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ তাঁদের।
সকাল থেকে কাঞ্চনবাড়ি বিদ্যুৎ দপ্তরের সামনে একটানা বিক্ষোভ চললেও দীর্ঘক্ষণ কোনও সন্তোষজনক আশ্বাস না মেলায় সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা দপ্তরের সামনের প্রধান সড়ক অবরোধ করেন। এমনকি দপ্তরের অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ারও পরিস্থিতি তৈরি হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ ও টিএসআর বাহিনী। উপস্থিত ছিলেন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ডেভিড চাকমা, বিদ্যুৎ দপ্তরের ডিজিএম আশীষ বণিক, এজিএম নিতাই দেববর্মা, ডিসিএম, সিনিয়র ম্যানেজার, ফটিকরায় থানার ওসি-সহ প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের অন্যান্য আধিকারিকরা।
পরে বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকরা আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। ডিজিএম আশীষ বণিক, এজিএম নিতাই দেববর্মা এবং কাঞ্চনবাড়ি বিদ্যুৎ দপ্তরের সিনিয়র ম্যানেজার যৌথভাবে আন্দোলনকারীদের লিখিত আশ্বাস দেন। লিখিত আশ্বাসে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল, স্মার্ট মিটারে দ্রুত টাকা কেটে যাওয়ার অভিযোগ এবং রিচার্জ সংক্রান্ত সমস্যাগুলি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার কথা জানানো হয়।
পাশাপাশি স্মার্ট মিটারের বিভিন্ন চার্জ ও রিচার্জ সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কোনও গ্রাহককে অহেতুক হয়রানি না করার আশ্বাস দেওয়া হয়। গ্রাহকদের অভিযোগ শোনা ও দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও জানানো হয়।
দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর প্রশাসন ও বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকদের লিখিত প্রতিশ্রুতি এবং মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ও ডিসিএমের মধ্যস্থতায় রাত প্রায় ৯টা নাগাদ আন্দোলনকারীরা আপাতত পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। তবে দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়িত না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর গণআন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।



















