আগরতলা, ১১ আগস্ট: রাজনৈতিক স্বার্থে ছাত্রদের ব্যবহার করছে কংগ্রেস। কারণ, দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনকে একভাবে দেখা হলেও ঝাড়খণ্ডে একই ধরনের আন্দোলনের ক্ষেত্রে কংগ্রেস-জেএমএম সরকার ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করছে। কংগ্রেসের এই দ্বিমুখী রাজনীতির কারণেই দলটি ক্রমশ মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। আজ কুশাভাউ ভবনে প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ের ঝাড়খণ্ডের কংগ্রেস-জেএমএম জোট সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন ত্রিপুরার পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী।
সুশান্ত চৌধুরী বলেন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার দাবিতে ঝাড়খণ্ডের ছাত্ররা যে আন্দোলন করছেন, তা সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক। বিজেপি এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতি নৈতিক সমর্থন জানাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনকে একভাবে দেখা হলেও ঝাড়খণ্ডে একই ধরনের আন্দোলনের ক্ষেত্রে কংগ্রেস-জেএমএম সরকার ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করছে।
কংগ্রেসকে নিশানা করে মন্ত্রী বলেন, দিল্লিতে এক নীতি, বাংলায় আরেক নীতি, ত্রিপুরায় অন্য নীতি, ঝাড়খণ্ডে অন্য নীতি এবং কেরলে আবার অন্য নীতি। এই দ্বিমুখী রাজনীতির কারণেই কংগ্রেস ক্রমশ মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।
ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গে ত্রিপুরার বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সুশান্ত। তাঁর বক্তব্য, জিতেন্দ্র চৌধুরী দিল্লিতে গিয়েছেন, কিন্তু ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের পাশে দাঁড়াতে কেন যাননি, সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া প্রয়োজন।
ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর পুলিশের ‘বর্বরোচিত হামলা’র অভিযোগও করেন তিনি। এমনকি আন্দোলনের সময় মহিলা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন মন্ত্রী। তাঁর কথায়, ছাত্রদের ন্যায্য দাবি নিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন হলে সেখানে প্রশাসনের দমনমূলক ভূমিকা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকেও সরাসরি আক্রমণ করেন সুশান্ত চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, জেএমএমের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট থাকার কারণেই ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলন নিয়ে রাহুল গান্ধী নীরব রয়েছেন। তিনি বলেন, ছাত্রদের অধিকার নিয়ে রাহুল গান্ধী যদি সত্যিই চিন্তিত হন, তাহলে ঝাড়খণ্ড সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ছাত্রদের দাবিগুলি পূরণের জন্য চাপ সৃষ্টি করা উচিত।
মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক স্বার্থে ছাত্রদের ব্যবহার করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস। তাঁর দাবি, রাঁচিতে ছাত্রদের আন্দোলন চললেও কংগ্রেস নেতৃত্ব সেখানে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে না।
এদিন নীট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিতর্ক প্রসঙ্গেও কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন সুশান্ত চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সংসদে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করেছিল। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপি সরকার বিষয়টির সমাধানে আইন প্রণয়নসহ কঠোর পদক্ষেপের পথে এগিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সুশান্ত চৌধুরী বলেন, পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান দায়িত্ব স্বীকার করে পদত্যাগ করেছিলেন। এর বিপরীতে কংগ্রেস এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে আন্দোলন সংগঠিত করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছ নিয়োগের দাবিতে ছাত্রদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে দলীয় রাজনীতির চশমায় দেখা উচিত নয়। সংবাদমাধ্যমকেও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা করা এবং ছাত্রদের অধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।
শেষে ঝাড়খণ্ডের ছাত্রদের প্রতি বিজেপির নৈতিক সমর্থনের কথা পুনরায় উল্লেখ করেন সুশান্ত চৌধুরী। তাঁর দাবি, কংগ্রেস-জেএমএম জোট সরকারকে অবিলম্বে ছাত্রদের দাবিগুলি মেনে নিয়ে সদিচ্ছার প্রমাণ দিতে হবে। বিভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণের মাধ্যমে বিরোধী দলগুলি মানুষের আস্থা হারাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
























