ইটানগর, ১১ আগস্ট (আইএএনএস): শিক্ষা, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ-সহ জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যাপক পরিবর্তন আনার ক্ষমতা রাখে। তবে উদীয়মান প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তরুণদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানালেন অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু।
পূর্ব সিয়াং জেলার সদর দফতর পাসিঘাটে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির পরিবেশ এবং তার সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের জীবনে পড়া প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে এআই এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি।
পেমা খান্ডু বলেন, “প্রযুক্তি একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের তরুণদের জন্য বিপুল সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এর সীমাবদ্ধতাও আমাদের বুঝতে হবে এবং দায়িত্বশীলভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।”
সোশ্যাল মিডিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়েও তরুণদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর মতে, সোশ্যাল মিডিয়া শিক্ষা, যোগাযোগ এবং আত্মপ্রকাশের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু অতিরিক্ত বা দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহার তরুণদের মানসিকতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ন্যাশনাল ক্যাডেট কর্পস (এনসিসি)-এর ক্যাডেটদের সোশ্যাল মিডিয়াকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহারের আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে ভুয়ো তথ্য এবং সাইবার সংক্রান্ত ঝুঁকি এড়িয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও বিভ্রান্তিকর বিষয়বস্তুর মধ্যে পার্থক্য করার দক্ষতা অর্জনের পরামর্শ দেন তিনি।
পেমা খান্ডু বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তরুণরা প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ তথ্য, মতামত এবং বিভিন্ন ধরনের প্রভাবের মুখোমুখি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এনসিসি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শেখানো শৃঙ্খলা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের মূল্যবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রযুক্তি যেন মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যম হয় এবং শিক্ষা, শারীরিক সক্ষমতা, ব্যক্তিগত উন্নয়ন ও সামাজিক দায়িত্ব থেকে তরুণদের বিচ্যুত না করে, সে বিষয়েও জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি এনসিসি ক্যাডেটদের পাসিঘাটের এনসিসি অ্যাকাডেমি কমপ্লেক্সে থাকা সুযোগ-সুবিধার সর্বোত্তম ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। সেখানে শেখা মূল্যবোধ স্কুল, কলেজ, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে প্রয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি।
ভারতের ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে যুবসমাজের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথা তুলে ধরে পেমা খান্ডু বলেন, “বিকশিত অরুণাচল ছাড়া বিকশিত ভারত সম্ভব নয়, আর ক্ষমতায়িত, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দায়িত্বশীল যুবসমাজ ছাড়া বিকশিত অরুণাচল গড়ে তোলা সম্ভব নয়।”
শিক্ষা, ক্রীড়া, দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোগপতি তৈরি এবং নেতৃত্ব বিকাশের ক্ষেত্রে অরুণাচলের তরুণদের আরও সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ সরকার অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী এবং অন্যান্য জাতীয় পরিষেবায় কেরিয়ার গড়ার বিষয়েও তরুণদের উৎসাহিত করেন মুখ্যমন্ত্রী।
অভিভাবক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বৃহত্তর সমাজের প্রতিও আরও বেশি তরুণকে এনসিসিতে যোগদানে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান পেমা খান্ডু। এনসিসির প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ থেকে তরুণরা উপকৃত হতে পারবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অরুণাচলের আরও বেশি তরুণকে অফিসার হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদানে উৎসাহিত করতে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। এর মধ্যে ‘মুখ্যমন্ত্রীর ফ্রন্টিয়ার সৈনিক স্কুল স্কলারশিপ স্কিম’-এর উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, এই প্রকল্পের আওতায় অরুণাচলের পড়ুয়াদের জন্য নির্দিষ্ট আটটি সৈনিক স্কুল এবং দেরাদুনের রাষ্ট্রীয় ইন্ডিয়ান মিলিটারি কলেজে (আরআইএমসি) পড়াশোনার ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
এছাড়াও অরুণাচলের পড়ুয়াদের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে একটি মেন্টরশিপ কর্মসূচি শীঘ্রই শুরু হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। অফিসার পর্যায়ে কোচিং ও মেন্টরশিপের সমন্বয়ে তৈরি এই উদ্যোগের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদানের আকাঙ্ক্ষী তরুণদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশ দেওয়া হবে।
অরুণাচল প্রদেশে দীর্ঘদিনের শক্তিশালী নাগরিক-সামরিক সৌহার্দ্যের ভিত্তিতে এই কর্মসূচি সৈনিক স্কুল ও মিলিটারি স্কুলে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে অফিসার হতে চাওয়া তরুণদের লক্ষ্যভিত্তিক দিকনির্দেশ ও পরামর্শ দেবে বলেও জানান পেমা খান্ডু।
— আইএএনএস



















