গুয়াহাটি, ১১ আগস্ট (আইএএনএস): অসমে মহিলা-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে একাধিক পদক্ষেপ করছে রাজ্য সরকার। প্রায় ৩৯ লক্ষ মহিলা উদ্যোক্তার বিশাল সম্প্রদায়কে নিজেদের ভাবনাকে টেকসই ও লাভজনক ব্যবসায় রূপান্তরিত করার জন্য ক্ষমতায়নের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে মঙ্গলবার জানালেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘অসম রুরাল’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য হল মহিলাদের উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের সম্ভাবনা বিকাশের আরও সুযোগ করে দেওয়া এবং তাঁদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলা।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশেষ করে গ্রামীণ ও সম্প্রদায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত মহিলারা তৃণমূল স্তরে উন্নয়নের গতি বাড়াতে এবং পরিবারের আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
‘লাখপতি দিদি’-র একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বৃহত্তর লক্ষ্যের আওতায় মহিলা উদ্যোক্তাদের প্রচলিত জীবিকা-নির্ভর কর্মকাণ্ডের গণ্ডি পেরিয়ে টেকসই মুনাফা অর্জনে সক্ষম ব্যবসা গড়ে তুলতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। মহিলাদের ব্যবসায়িক ধারণাকে কার্যকর উদ্যোগে পরিণত করার পাশাপাশি আয় বৃদ্ধি এবং তৃণমূল স্তরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে মহিলা উদ্যোক্তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোরও চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁদের নতুন ব্যবসার সুযোগ চিহ্নিত করা, নিজেদের পণ্য ও পরিষেবার উন্নয়ন এবং ব্যবসার পরিধি বাড়াতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং গ্রামীণ জীবিকা-ভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে অসমের বিপুল সংখ্যক মহিলা যুক্ত রয়েছেন। ফলে গ্রামীণ উন্নয়ন কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মহিলা-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগকে আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্য সরকার।
সরকারের দাবি, প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সুযোগ পেলে ৩৯ লক্ষ মহিলা উদ্যোক্তা অসমের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম একটি ‘শক্তিশালী শক্তি’ হয়ে উঠতে পারেন।
‘লাখপতি দিদি’ উদ্যোগের লক্ষ্য হল মহিলাদের শুধুমাত্র সরকারি উন্নয়নমূলক কর্মসূচির সুবিধাভোগী হিসেবে না রেখে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী এবং লাভজনক ব্যবসা গড়ে তুলতে সক্ষম উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।
আধিকারিকদের মতে, মহিলা-নেতৃত্বাধীন ব্যবসাকে শক্তিশালী করলে গ্রামীণ সমাজে এর বহুমুখী প্রভাব পড়তে পারে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি, পরিবারের আয় বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে মহিলাদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো সম্ভব।
অসম সরকারের এই নতুন উদ্যোগের মূল লক্ষ্য তাই মহিলা উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক ভাবনাকে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করে টেকসই জীবিকার সুযোগ তৈরি করা এবং রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও সম্প্রসারিত করা। তৃণমূল স্তরে মহিলাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং উদ্যোক্তা তৈরির শক্তিশালী পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রাজ্যের চলমান প্রচেষ্টারই অংশ এই উদ্যোগ।
— আইএএনএস



















