আগরতলা, ১১ আগস্ট: আগরতলায় পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবার ১০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক -এর সহযোগিতায় ইতিমধ্যেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী ২১ আগস্ট টেন্ডার খোলা হবে বলে জানানো হয়েছে। নগর উন্নয়ন দফতরের সচিব ড. মিলিন্দ রামটেকে সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানান।
তিনি বলেন, বর্তমানে আগরতলায় সুসংগঠিত পাবলিক ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম এবং পর্যাপ্ত ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবস্থা নেই। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের কাছে ইলেকট্রিক বাস এবং চার্জিং পরিকাঠামো তৈরির জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রস্তাব অনুমোদনের পরই বাস কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ৯ মিটার দৈর্ঘ্যের ১০টি ইলেকট্রিক বাস কেনা হবে। একইসঙ্গে বাসগুলির জন্য প্রয়োজনীয় চার্জিং পরিকাঠামোও তৈরি করা হবে। এর লক্ষ্য হল আগরতলা শহর এবং শহরের আশপাশের প্রায় ১০–১২ কিলোমিটার এলাকার মানুষের জন্য একটি পরিষ্কার, সবুজ ও সাশ্রয়ী গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করা।
তবে বর্তমানে চলাচলরত পরিবহন ব্যবস্থায় যাতে বড় ধরনের কোনও বিঘ্ন না ঘটে, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। সেই কারণে প্রাথমিকভাবে সীমিত সংখ্যক বাস চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিষেবা সফল হলে ভবিষ্যতে বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
জানা গেছে, এডিবি -র ‘রোডস অ্যান্ড মোবিলিটি’ প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এডিবি -কে অনুরোধ করা হয়েছিল, যেহেতু শহরের রাস্তা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে, তাই তার সঙ্গে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থাকেও যুক্ত করা হোক। সেই প্রস্তাব বিবেচনা করে প্রকল্পে ইলেকট্রিক বাস সংযোজনের অনুমোদন দেয় এডিবি।
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক রাজ্যকে বিভিন্ন পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে সফট লোনের মাধ্যমে সহায়তা করছে। সেই অর্থের আওতাতেই এই গণপরিবহন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নগর উন্নয়ন দফতরের সচিব ড. মিলিন্দ রামটেকে বলেন, আগরতলায় এর আগে টাউন বাস পরিষেবা থাকলেও তা মূলত শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না এবং অনেক দূরের এলাকাতেও চলাচল করত। ফলে সেগুলি অনেকটা আন্তঃশহর বাস পরিষেবার মতো হয়ে উঠেছিল। এবার প্রস্তাবিত ইলেকট্রিক বাসগুলি মূলত আগরতলা শহর এবং সংলগ্ন ১০–১২ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, আগরতলা পুর নিগম এবং আগরতলা স্মার্ট সিটি লিমিটেডের উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই পরিষেবা সফল হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হওয়ার পাশাপাশি শহরের দূষণও কমবে। বর্তমান সময়ে একটি পরিষ্কার ও সবুজ নগর গণপরিবহন ব্যবস্থা আগরতলার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলেও জানানো হয়েছে।



















