রাঁচি, ১০ আগস্ট (আইএএনএস): নিয়োগ পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং অনিয়মের অভিযোগে সিবিআই তদন্তের দাবিতে সোমবার ঝাড়খণ্ড বিধানসভার দিকে মিছিল শুরু করলেন রাঁচির আন্দোলনরত পড়ুয়ারা। একাধিক দফায় সরকারের সঙ্গে আলোচনা হলেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় পড়ুয়াদের এই আন্দোলন ১৭তম দিনে পড়েছে।
হাতে তেরঙ্গা ও ফুল নিয়ে পড়ুয়ারা বিধানসভার উদ্দেশে মিছিল করেন। তাঁদের দাবি, সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদেই এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি। একইসঙ্গে আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থারও সমালোচনা করেন। তাঁদের অভিযোগ, বিধানসভায় পৌঁছনো আটকাতেই প্রশাসন নানা বাধা তৈরি করছে।
ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (জেএসএসসি) পরিচালিত বিতর্কিত নিয়োগ পরীক্ষাগুলি বাতিল এবং কথিত অনিয়মের সিবিআই তদন্তের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন পড়ুয়ারা।
আইএএনএসকে এক আন্দোলনকারী বলেন, ‘‘রাজ্যের সমস্ত পড়ুয়াকে যত দ্রুত সম্ভব বিধানসভায় পৌঁছনোর আবেদন জানাচ্ছি। সরকার যেন ভয় পেয়েছে, তাই আমাদের আটকানোর চেষ্টা করছে। বিভিন্ন সম্প্রদায় ও জাতির পড়ুয়ারা এখানে একসঙ্গে এসেছেন। এই ছাত্র ঐক্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা হাতে ফুল নিয়ে এসেছি, যাতে স্পষ্ট হয় আমাদের আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।’’
আর এক পড়ুয়ার অভিযোগ, প্রশাসন তাঁদের অযথা বাধার মুখে ফেলছে। তিনি বলেন, ‘‘প্রশাসন আমাদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করছে এবং বিধানসভার কাছে যেতে দিচ্ছিল না। এখানে পৌঁছতে আমাদের পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। পড়ুয়া এবং তাঁদের ভবিষ্যতের জন্যই আমি এখানে এসেছি।’’
তৃতীয় এক আন্দোলনকারী সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, ‘‘সরকার সারা বিশ্বকে বলছে যে তারা পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনা করছে। কিন্তু আমাদের কোনও দাবিই মানা হচ্ছে না। আমরা শুধু সিবিআই তদন্ত চাইছি। সরকারের লুকানোর মতো কিছু না থাকলে সিবিআই তদন্তে এত ভয় কেন?’’
আর এক আন্দোলনকারীর অভিযোগ, পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা এমন একটি সরকারকে জাগাতে চাই, যে পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের দিকে নজর দিচ্ছে না। পড়ুয়াদের প্রতি কোনও সহানুভূতি আছে বলে মনে হচ্ছে না। গোটা ব্যবস্থাতেই ত্রুটি রয়েছে এবং সঠিকভাবে পরীক্ষা পরিচালনা করা হচ্ছে না।’’
রবিবার পড়ুয়া প্রতিনিধি এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে তৃতীয় দফার আলোচনা কোনও সমাধান ছাড়াই শেষ হওয়ার পর আন্দোলন আরও তীব্র হয়। আলোচনায় অচলাবস্থা কাটেনি। এরপর বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচিতে যোগ দিতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার পড়ুয়া রাঁচিতে আসতে শুরু করেন।
বাস, ট্রেন এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে করে পড়ুয়ারা রাজ্যের রাজধানীতে পৌঁছন। তাঁদের অনেকেই রবিবার সকালেই রাঁচিতে এসে পৌঁছেছিলেন। শতাধিক পড়ুয়া জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়াম, অটল স্মৃতি ভেন্ডর মার্কেট এবং আশপাশের বিভিন্ন ভবনের বারান্দায় রাত কাটান।
বিক্ষোভের কথা মাথায় রেখে রাঁচিজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। বিধানসভা চত্বরের ৭৫০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-র ১৬৩ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বিধানসভামুখী রাস্তার প্রায় ১২টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ভারী ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। বেশ কয়েকটি জায়গায় কাঁটাতারের ব্যারিকেডও তৈরি করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রায় ২,০০০ অতিরিক্ত পুলিশকর্মীর পাশাপাশি র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ)-এর সদস্য, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের গাড়ি এবং জলকামান মোতায়েন করা হয়েছে। রাজ্য সরকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের সংযম বজায় রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে। তবে কাঁটাতারের ব্যারিকেড ঘিরে ঝাড়খণ্ডে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
—আইএএনএস



















