নয়াদিল্লি, ৯ আগস্ট (আইএএনএস): এনইইটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ছাত্র আন্দোলনের সময় ‘জেন জি’-র সদস্যদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছিল বলে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা ধর্মেন্দ্র প্রধানের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করল বিরোধী শিবির। কংগ্রেস-সহ বিরোধী নেতারা তাঁর উদ্দেশে নিজের আমলে হওয়া ভুল ও ত্রুটিগুলি নিয়ে ‘আত্মসমীক্ষা’ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার সম্বলপুরের গঙ্গাধর মেহের বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেছিলেন, “আমার মনে হয়, কিছু মানুষ আমাদের জেন জি-কে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।”
এর জবাবে কংগ্রেস সাংসদ মনোজ কুমার প্রশ্ন তোলেন, “প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল কি না? পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২০-২২ লক্ষ ছাত্রছাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল কি না? কয়েক ডজন ছাত্র আত্মহত্যা করেছিল কি না? তাহলে তাঁদের কে বিভ্রান্ত করেছিল?”
আইএএনএসকে তিনি বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের বোঝা উচিত, ছাত্রছাত্রীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাঁরা দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন এবং কাউকে দিয়ে সহজে বিভ্রান্ত করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে মনোজ কুমার বলেন, সেখানে প্রশাসন কীভাবে ছাত্রদের সঙ্গে সহযোগিতা করছে, কেন্দ্রের তা দেখা উচিত। রাজ্য সরকারের সঙ্গে ইতিমধ্যেই একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। তাহলে দিল্লিতে কেন্দ্র কেন একইভাবে ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনা করল না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
কংগ্রেস সাংসদ মণীশ তেওয়ারি ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দেশে এত বড় ছাত্র আন্দোলন কেন তৈরি হয়েছিল, তা বোঝার জন্য ‘আত্মসমীক্ষা’ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “দেশের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে আপনার আমলে কী কী ভুল হয়েছিল? কোথায় কোথায় ঘাটতি ছিল, তা ভাবা উচিত। এনইইটি প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রমাণ করেছে যে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছে। এগুলি অত্যন্ত গুরুতর বিষয় এবং এগুলি নিয়ে তাঁদের গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করা দরকার।”
সিপিআই(এম) সাংসদ ভি. শিবদাসনও প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের উপলব্ধি “সম্পূর্ণ ভুল”। তাঁর দাবি, ছাত্রসমাজের আন্দোলনের কারণেই ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিত্ব হারাতে হয়েছিল।
শিবদাসন বলেন, ছাত্ররা ন্যায্য দাবি তুলেছিল। সরকারের নীতির কারণে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে এবং ৫০টিরও বেশি পুনঃপরীক্ষা নিতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সিপিআই(এম) নেতা হান্নান মোল্লার অভিযোগ, ছাত্রদের কাউকে উসকানি দিতে হয়নি। তিনি বলেন, “ছাত্রদের আত্মহত্যা এবং বহু ছাত্রের ভবিষ্যৎ নষ্ট হওয়ার জন্য ধর্মেন্দ্র প্রধান দায়ী। জনরোষের কারণে তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।”
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিবসেনা-ইউবিটি সাংসদ সঞ্জয় রাউতও ধর্মেন্দ্র প্রধান ও বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রকে নিশানা করেন। তাঁর বক্তব্য, যদি জেন জি-কে কেউ উসকানি দিয়ে থাকে, তাহলে সেই উসকানি এসেছে সরকারের কাজকর্ম থেকেই।
রাউত বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রক যেভাবে চালানো হয়েছে, এনইইটি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, বারবার পরীক্ষা পিছিয়েছে—এসবের ফলেই প্রতিবাদ হয়েছে। এর জন্য আপনারাই দায়ী।”
কংগ্রেস সাংসদ প্রমোদ তিওয়ারিও ধর্মেন্দ্র প্রধানকে কটাক্ষ করে বলেন, পদত্যাগের পর তিনি পরিস্থিতি বুঝতে পারবেন বলে মনে করেছিলেন, কিন্তু এখনও তিনি “অন্য এক জগতেই বাস করছেন” বলে মনে হচ্ছে।
তাঁর অভিযোগ, ধর্মেন্দ্র প্রধানের শিক্ষামন্ত্রী থাকার সময় শিক্ষাক্ষেত্রে বাণিজ্যিকীকরণ বেড়েছিল এবং অর্থের বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার স্বাধীনতা খর্ব করে সেটিকে আরএসএসের প্রভাবাধীন করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের আরও আগেই পদত্যাগ করা উচিত ছিল।
—আইএএনএস



















