নয়াদিল্লি/ভোপাল, ৭ আগস্ট (আইএনএস): মধ্যপ্রদেশে স্কুলপড়ুয়া শিশুদের সঙ্গে জড়িত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রকাশিত দুটি সংবাদ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে (সুয়োমোটো) পদক্ষেপ নিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি)। এ বিষয়ে রাজ্য প্রশাসনের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
প্রথম ঘটনায়, মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের নেতৃত্বাধীন মধ্যপ্রদেশের বিদিশা জেলার ককরাউয়া গ্রামের স্কুল পড়ুয়াদের নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেছে এনএইচআরসি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রতিদিন প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বেতওয়া নদী পার হতে হচ্ছে ওই পড়ুয়াদের।
গ্রামের শিশুরা একটি চেক ড্যামের উন্মুক্ত পিলারের উপর দিয়ে লাফিয়ে নদী পার হয়ে স্কুলে যায়। এই বিপজ্জনক পথ ব্যবহার করলে ১৩ কিলোমিটারের সড়কপথ কমে মাত্র দেড় কিলোমিটার হয়। প্রতিদিন ৯ জন পড়ুয়া, যার মধ্যে পাঁচজন ছাত্রী রয়েছে, এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করে বলে জানা গেছে।
শিশুরা পিলারের মাঝের ফাঁক সাবধানে পেরিয়ে যাচ্ছে—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
এনএইচআরসি পর্যবেক্ষণ করেছে, এই শিশুদের জন্য নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকা তাদের মর্যাদার সঙ্গে শিক্ষার মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
কমিশন সংবিধানের ২১এ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে জানিয়েছে, ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০০৯ সালের শিশুদের বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা অধিকার আইন এই অধিকারকে আরও শক্তিশালী করেছে।
এনএইচআরসি সুপ্রিম কোর্টের অবিনাশ মেহরোত্রা বনাম ভারত সরকার (২০০৯) মামলার রায়ের কথাও উল্লেখ করেছে, যেখানে আদালত বলেছিল, শিক্ষার অধিকারের মধ্যে নিরাপদ স্কুল ও নিরাপদ পরিকাঠামোর অধিকারও অন্তর্ভুক্ত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, তাঁরা মাঠে কাজ করার কারণে প্রতিদিন শিশুদের দূরের স্কুলে পৌঁছে দিতে পারেন না। ফলে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া অথবা ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করা—এই দুই বিকল্পের মুখোমুখি হতে হচ্ছে পড়ুয়াদের।
এক ছাত্রীর ক্ষেত্রে জানা গেছে, পিলারের উপর দিয়ে লাফিয়ে যাওয়ার মতো উচ্চতা না থাকায় সে স্কুলে যেতে পারেনি এবং শেষ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে।
বিজেপি শাসিত রাজ্যের জেলা শিক্ষা আধিকারিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানালেও নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা তৈরির জন্য এখনও কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
এই ঘটনায় মধ্যপ্রদেশের মুখ্যসচিবকে নোটিস পাঠিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে এনএইচআরসি।
অন্য একটি ঘটনায়, শিবপুরী জেলার উকাওয়াল গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির এক দলিত ছাত্রকে শিক্ষক মারধর করেছেন এবং জাতিবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেছেন—এমন অভিযোগের ভিত্তিতেও পদক্ষেপ নিয়েছে মানবাধিকার কমিশন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ছাত্র নিজের বোতল থেকে জল খাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষক তাকে মারধর করেন এবং জাতিগত অপমানজনক মন্তব্য করেন। পরে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানালে তার বাবা-মা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।
এনএইচআরসি জানিয়েছে, অভিযোগগুলি সত্য হলে তা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা।
এই ঘটনায় মধ্যপ্রদেশের মুখ্যসচিব এবং শিবপুরীর পুলিশ সুপারকে নোটিস পাঠিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন। রিপোর্টে আক্রান্ত শিশুকে আইনি বিধি অনুযায়ী কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তার তথ্যও চাওয়া হয়েছে।
দুটি ঘটনাই মধ্যপ্রদেশে শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও মর্যাদার অধিকার রক্ষার বিষয়ে মানবাধিকার কমিশনের উদ্বেগকে তুলে ধরেছে।



















