কৈলাসহর, ৭ আগস্ট: মন্ত্রী টিংকু রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় কৈলাসহর প্রথম শ্রেণির আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশকে স্বাগত জানিয়ে শুক্রবার কৈলাসহরে এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন চণ্ডীপুরের কংগ্রেস বিধায়ক বিরজিত সিনহা। তাঁর বাসভবনে আয়োজিত এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মামলার আইনজীবী নর সিংহ দাস, ঊনকোটি জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মোহাম্মদ বদরুজ্জামান এবং কংগ্রেস নেতা চন্দ্রশেখর সিনহা।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিধায়ক বিরজিত সিনহা অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে চণ্ডীপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় টিংকু রায় তাঁর হলফনামায় উল্লেখ করেছিলেন যে তিনি মধ্যপ্রদেশের একটি শিক্ষা বোর্ড থেকে দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই।
বিরজিত সিনহার দাবি, টিংকু রায় যে শিক্ষা বোর্ডের সনদের কথা উল্লেখ করেছেন, সেই বোর্ডকে সরকার বহু আগেই অবৈধ ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগেই পশ্চিম আগরতলা থানায় টিংকু রায়ের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল এবং তা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও হলফনামায় মামলা না থাকার তথ্য দেওয়া হয়েছে, যা তাঁর মতে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
বিরজিত সিনহা জানান, এই অভিযোগের ভিত্তিতে কংগ্রেস নেতা চন্দ্রশেখর সিনহা ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর কৈলাসহর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সে সময় থানার তৎকালীন ওসি অভিযোগ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি, অবৈধ ঘোষিত শিক্ষা বোর্ডের সরকারি কাগজপত্র এবং পশ্চিম আগরতলা থানার মামলার নথি জমা দিতে বলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৫ ডিসেম্বর সমস্ত নথি জমা দেওয়া হলেও পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করেনি।
এরপর ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি ঊনকোটি জেলার পুলিশ সুপারের কাছেও লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। পরবর্তীতে কংগ্রেস নেতা চন্দ্রশেখর সিনহা কৈলাসহর প্রথম শ্রেণির আদালতের দ্বারস্থ হন।
বিধায়ক জানান, চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল আদালতে মামলাটি রুজু হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় শুনানির পর ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত তৃতীয় শুনানিতে বিচারক রঞ্জাবতী রায় কৈলাসহর থানার ওসিকে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর আদালতে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত জানতে চেয়েছে— অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ জিডি এন্ট্রি করেছিল কি না, কোনো তদন্ত হয়েছিল কি না এবং মামলা নথিভুক্ত না করার কারণ কী।
মামলার আইনজীবী নর সিংহ দাস বলেন, বিচারকের এই নির্দেশে আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে, “আইন সবার জন্য সমান এবং আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন।” তিনি আরও দাবি করেন, আদালতের পর্যবেক্ষণ থেকে স্পষ্ট যে তৎকালীন ঊনকোটি জেলার পুলিশ সুপার সুধামবিকা আর এবং কৈলাসহর থানার তৎকালীন ওসি সুকান্ত সেন চৌধুরী দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করেছেন।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দুই পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে তাঁরা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ হিসেবে ত্রিপুরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন।



















