নয়াদিল্লি, ৬ আগস্ট (আইএএনএস): টেরিটোরিয়াল আর্মি (টিএ) ‘নাগরিক-সৈনিক’ ধারণার এক জীবন্ত উদাহরণ এবং দেশের সামরিক শক্তিকে প্রয়োজনে অতিরিক্ত সক্ষমতা জোগানোর ক্ষেত্রে এই বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সংসদীয় পরামর্শদাতা কমিটির বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বৈঠকে টেরিটোরিয়াল আর্মির দায়িত্ব, ভূমিকা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য সম্পর্কে সদস্যদের বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়। বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলতে কমিটির সদস্যরাও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন।
রাজনাথ সিং বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়নে টেরিটোরিয়াল আর্মির অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, নিয়মিত সেনাবাহিনীর মূল দায়িত্ব সীমান্ত সুরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা হলেও টেরিটোরিয়াল আর্মি একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক উন্নয়ন এবং দুর্যোগ মোকাবিলার মতো ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, টেরিটোরিয়াল আর্মির সদস্যরা একদিকে তাঁদের নিজ নিজ বেসামরিক পেশায় যুক্ত থাকেন, অন্যদিকে প্রয়োজনে সেনার পোশাক পরে দেশের সীমান্ত রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব শেষ করে সাধারণ জীবনে ফিরে যাওয়ার পর তাঁরা সমাজ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধনের কাজ করেন এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদানের জন্য অনুপ্রাণিত করেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে টেরিটোরিয়াল আর্মিতে প্রায় ৪৪,৪০০ প্রশিক্ষিত সদস্য এবং ৫৯টি বিভিন্ন ইউনিট রয়েছে। তিনি এই বাহিনীকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ‘প্রথম সাড়া-দাতা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কেরলের বন্যা, ওড়িশার ঘূর্ণিঝড় এবং সম্প্রতি অসমের বন্যার সময় টেরিটোরিয়াল আর্মির সদস্যরা ত্রাণ, উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে রাজনাথ সিং জানান, টেরিটোরিয়াল আর্মির ইকোলজিক্যাল টাস্ক ফোর্স এখনও পর্যন্ত প্রায় ১০ কোটি চারা গাছ রোপণ করেছে, যার বেঁচে থাকার হার ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মিশন লাইফ’ এবং ‘পঞ্চামৃত’ লক্ষ্যের বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
তিনি জম্মু ও কাশ্মীরে টেরিটোরিয়াল আর্মির সদস্যদের ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানে সক্রিয় ভূমিকারও প্রশংসা করেন।
বৈঠকে প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠ, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল এন. এস. রাজা সুব্রহ্মণ্যম, সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরজ শেঠ, প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংসহ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।
























