আগরতলা, ৪ আগস্ট: ভারতের সমৃদ্ধ হ্যান্ডলুম ও হস্তশিল্পের ঐতিহ্য সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তোলা এবং এই খাতে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির সম্ভাবনা তুলে ধরার লক্ষ্যে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পালিত হলো ১২তম জাতীয় হ্যান্ডলুম সপ্তাহ।
ভারত সরকারের বস্ত্র মন্ত্রকের অধীন উইভার্স সার্ভিস সেন্টার, আগরতলা-র উদ্যোগে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ভবনের সম্মেলন কক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক দেবব্রত দাস, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সমীর কুমার শীল, ত্রিপুরা সরকারের হ্যান্ডলুম, হ্যান্ডিক্রাফ্ট ও সেরিকালচার দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব ও অধিকর্তা অজিত শুক্ল দাস, আইএএস, সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা বলেন, দেশের হ্যান্ডলুম শিল্পকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প সংরক্ষণে উইভার্স সার্ভিস সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০১৫ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের আওতায় বর্তমানে দেশজুড়ে ২৯টি উইভার্স সার্ভিস সেন্টার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজ্য ও ক্লাস্টার পর্যায়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করছে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও যুবসমাজকে হ্যান্ডলুম শিল্পকে শুধু ঐতিহ্য সংরক্ষণের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান এবং আয়ের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবেও বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তাদের মতে, তরুণ উদ্যোক্তারাই ভারতের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র ও হস্তশিল্পকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরতে পারেন।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে হ্যান্ডলুম ও হস্তশিল্প বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়। এতে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন এবং ভারতের হ্যান্ডলুম ঐতিহ্য সম্পর্কে তাঁদের জ্ঞান ও আগ্রহের পরিচয় দেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বস্ত্র মন্ত্রকের ডেভেলপমেন্ট কমিশনার (হ্যান্ডলুম)-এর বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ছিল ক্লাস্টার ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প, ইন্ডিয়া হ্যান্ডলুম ব্র্যান্ড, হ্যান্ডলুম মার্ক, উইভার্স মুদ্রা স্কিম এবং ই-ধাগা অ্যাপ।
জানানো হয়, ক্লাস্টার ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ক্লাস্টারের প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায়। ইন্ডিয়া হ্যান্ডলুম ব্র্যান্ড উচ্চমানের হ্যান্ডলুম পণ্যের প্রচার ও প্রসারে কাজ করছে, আর হ্যান্ডলুম মার্ক ক্রেতাদের কাছে পণ্যের আসলত্বের নিশ্চয়তা প্রদান করে। পাশাপাশি উইভার্স মুদ্রা স্কিম তাঁতিদের সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা প্রদান করে এবং ই-ধাগা অ্যাপ-এর মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সুতা সংগ্রহের সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের শেষে আয়োজকরা ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ঐতিহ্যবাহী হ্যান্ডলুম ও হস্তশিল্প সংরক্ষণের পাশাপাশি তাঁতি ও কারুশিল্পীদের জন্য টেকসই অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
























