নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৩ জুলাই: ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি আগরতলা সিভিল হাসপাতালে রোগীদের ভিড় বাড়ছে। আজও রোগীরা হাসপাতালে এসে পরিষেবা গ্রহণ করেছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহার আন্তরিক প্রচেষ্টায় উন্নত, আধুনিক ও সহজলভ্য স্বাস্থ্য পরিষেবা রাজ্যের সর্বস্তরের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আগরতলার জ্যাকসন গেট সংলগ্ন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি আগরতলা সিভিল হাসপাতাল গত ১২ জুলাই উদ্বোধন করা হয়। উন্নত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবার সম্প্রসারণে এটি রাজ্য সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
জনসাধারণের সুবিধার্থে এই হাসপাতালে দুই শিফটে রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য বহির্বিভাগ (ওপিডি) চালু রয়েছে। বর্তমানে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকেল ৫টা থেকে রাত ৭টা অবধি রোগীদের রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এরপর রোগী যতক্ষণ থাকবেন রোগীকে চিকিৎসকরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে পরিষেবা প্রদান করবেন। আজ সিভিল হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণ করতে আসেন কাশীপুরের বাসিন্দা তপন কুমার ঘোষ। তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। গত ১৪ জুলাই তারিখে তিনি প্রথমবার এই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন। সে সময় তাঁর রক্ত পরীক্ষায় শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ধরা পড়ে। পরবর্তীতে গত ২০ জুলাই তিনি পুনরায় হাসপাতালে এসে রক্ত পরীক্ষা করান। আজ তিনি আবার জেনারেল মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ উত্তম কুমার বর্মনের কাছে চিকিৎসার জন্য আসেন। চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র প্রেসক্রাইব করেন। তিনি এই হাসপাতালের পরিষেবায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। এই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতারও প্রশংসা করেন তিনি।
আরেকজন রোগী হলেন সবিতা পাল ভৌমিক। তিনি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক। তিনিও মেডিসিন ডিপার্টমেন্টে দেখানোর উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। তার বক্তব্য অনুসারে এই হাসপাতালে এসে খুব ভালো লাগলো সিস্টেমটা, একদম প্রাইভেট অর্গানাইজেশনের মতো। প্রথমে ওজন, হাইট, ব্লাড প্রেশার ইত্যাদি দেখলো। তারপর সিস্টেমেটিকভাবে চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। এরপর ব্লাড টেস্টের জন্য ১০২ নম্বর ঘরে পাঠানো হয়। তাঁর অভিমত অনুসারে এখানকার পরিষেবা প্রদানের যে পদ্ধতি এসবই অনেকটাই প্রাইভেট হাসপাতালের মতো, খুব ভালো লাগলো সবার ব্যবহার।
এছাড়া শিশির চক্রবর্তী নামে অপর রোগী জেনারেল মেডিসিন বিভাগে আজ দেখাতে এসেছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শও নিয়েছেন। চিকিৎসক ব্লাড টেস্ট সহ কিছু পরীক্ষা করতে দিয়েছেন। এখানকার পরিষেবা ও কর্মচারিদের প্রশংসা করে তিনি জানান যে তাঁর খুব ভালো লাগছে। সিভিল হাসপাতালের যে পরিবেশ তাও খুব ভালো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। স্টাফের ব্যবহারও তার কাছে খুব ভালো লেগেছে। তিনি হাসপাতালের পরিষেবাতে খুবই সন্তুষ্ট এবং আশা করেন যে এটা উত্তরোত্তর আরও বৃদ্ধি পাবে। এদিকে চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অমিত কুমার দাসের কাছেও চক্ষু রোগের চিকিৎসার জন্য রোগীরা আসেন। স্বপন নন্দী নামে একজন রোগীর রেটিনার সমস্যা ছিল। তাঁর ফান্ডাস্কোপি করা হয়। এছাড়া প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ ডাঃ সুশান্ত সাহা, চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অন্বেষা রায় বর্ধন, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অরূপ রায় ডেন্টাল সার্জন ডাঃ অন্বেষা ভট্টাচার্য যথারীতি রোগী দেখেছেন আজ।


















