কৈলাসহর, ২২ জুলাই: যে বয়সে শিশুদের হাতে বই-খাতা থাকার কথা, সেই বয়সেই তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে মাদক পাচারের কাজে—এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থাকল কৈলাসহর মহকুমার ইরানি থানার বাবুর বাজার এলাকা। বুধবার সকালে পুলিশের অভিযানে এক ১৪ বছরের নাবালকের কাছ থেকে সন্দেহভাজন ব্রাউন সুগার উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার সকাল প্রায় ৯টা নাগাদ বাবুর বাজার এলাকায় অভিযান চালায় ইরানি থানার পুলিশ। সিভিল ড্রেসে অভিযানে নেতৃত্ব দেন থানার সেকেন্ড অফিসার। অভিযানের সময় এক নাবালকের কাছ থেকে পকেটে মোড়া অবস্থায় সন্দেহভাজন ব্রাউন সুগার উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া নাবালকের বয়স আনুমানিক ১৪ বছর এবং তার বাড়ি কৈলাসহর মহকুমার শ্রীনাথপুর এলাকায়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই নাবালক দাবি করেছে, মমতা বেগম নামে তার এক আত্মীয়া (পিসি) তার হাতে একটি প্যাকেট তুলে দিয়ে নির্দিষ্ট এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দিতে বলেছিলেন। ওই ব্যক্তিকে সে আগে থেকে চিনত না বলেও জানিয়েছে। তাকে বলা হয়েছিল, নির্দিষ্ট ব্যক্তি তাকে দেখে চিনে নেবে এবং প্যাকেটটি সংগ্রহ করবে।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান মহকুমা পুলিশের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা। উদ্ধার হওয়া সন্দেহভাজন মাদকদ্রব্য পরীক্ষা করে তার প্রকৃতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ইরানি থানার পুলিশ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নেশা কারবারিদের নতুন কৌশল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, বাবুর বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই একটি মাদক চক্র সক্রিয় রয়েছে। দূরদূরান্ত থেকে এসে কিছু ব্যক্তি নিয়মিত মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। নাবালকদের ব্যবহার করে মাদক পাচারের অভিযোগ সামনে আসায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
তবে তদন্তের স্বার্থে এবং আইনি বিধিনিষেধ মেনে উদ্ধার হওয়া নাবালকের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশের দাবি, এই ঘটনার সূত্র ধরে মাদক পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষ হলে পুরো চক্রের সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসবে বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা।
























