আগরতলা, ২০ জুলাই: সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে মানহানি ও অপপ্রচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শান্তিবাজারে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অভিযোগের জেরে অভিযুক্ত যুবক চন্দন দেবনাথ শেষ পর্যন্ত শান্তিরবাজার থানায় পুলিশের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এরপরই বিষয়টির শান্তিপূর্ণ মীমাংসা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালে। সিপাহীজলা জেলার নিদয়া এলাকার বাসিন্দা চন্দন দেবনাথ বি.এড কোর্সে ভর্তির জন্য অনুকূল দত্ত নামে এক ব্যক্তির কাছে ৩০ হাজার ৮০০ টাকা প্রদান করেন। অভিযোগ, পরবর্তীতে তাঁর রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন না হওয়ায় ২০ হাজার টাকা ফেরত পেলেও বাকি ১০ হাজার ৮০০ টাকা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। চন্দনের দাবি ছিল, ওই টাকা ফেরত পাওয়ার কথা থাকলেও অনুকূল দত্ত জানান, অর্থটি কলেজে জমা হয়ে গেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চন্দন দেবনাথ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অনুকূল দত্ত ও তাঁর স্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে একাধিক পোস্ট করেন বলে অভিযোগ। এর জেরে অনুকূল দত্ত দাবি করেন, তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং তাঁদের ব্যক্তিগত ও দাম্পত্য জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার শান্তিবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন অনুকূল দত্ত। একইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সরব হন তাঁর স্ত্রী দেবশ্রীতা নন্দীও। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয়েছে, যা অত্যন্ত অমানবিক এবং মানহানিকর।
অভিযোগ পাওয়ার পর শান্তিবাজার থানার পুলিশ উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়। পুলিশের মধ্যস্থতায় চন্দন দেবনাথ নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং অনুকূল দত্ত ও তাঁর স্ত্রীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পাশাপাশি অনিচ্ছাকৃতভাবে দেবশ্রীতা নন্দীর ছবি সামাজিক মাধ্যমে ব্যবহার করার জন্যও দুঃখপ্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর করবেন না বলেও তিনি আশ্বাস দেন। পুলিশের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির অবসান ঘটে এবং উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়।



















