সাব্রুম, ১১ জুলাই: ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে তোলাবাজির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের কথা বারবার জানিয়ে আসছেন। এরই মধ্যে দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম বাসস্ট্যান্ডে ছাড়পত্রের অর্থ আদায়কে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বাস ও জিপ চালক-মালিকদের একাংশের অভিযোগ, সংগঠনের কিছু দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন, যার ফলে চালক, মালিক এবং কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাব্রুম বাসস্ট্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক সংগঠনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। ২০১৮ সালের পর সাউথ ত্রিপুরা বাস-জিপ চালক সংঘ ওই দায়িত্ব গ্রহণ করে। অভিযোগ, সংগঠনের তৎকালীন নেতৃত্বের সময় ছাড়পত্র বাবদ সংগৃহীত অর্থ শ্রমিকদের কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হতো। পাশাপাশি বাসস্ট্যান্ডে কর্মরত তিনজন কেরানির বেতনও ওই তহবিল থেকেই প্রদান করা হতো।
তবে চালক ও মালিকদের একাংশের দাবি, পরবর্তীকালে সংগঠনের নেতৃত্বে পরিবর্তনের পর পরিস্থিতির বদল ঘটে। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নেতা সংগঠনের অন্য নেতৃত্বদের সঙ্গে আলোচনা না করেই বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন এবং শ্রমিকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে কাজ করছেন। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতার কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় দুই মাস আগে সাব্রুম বাসস্ট্যান্ডে ছাড়পত্রের ফি ৩০ টাকা থেকে কমিয়ে ১০ টাকা করা হয়। একই সময়ে মনুবাজারে একটি নতুন কমিটি গঠন করে সেখানে ৩০ টাকা করে ছাড়পত্র সংগ্রহ শুরু হয়। এতে সাব্রুম থেকে ছাড়পত্র নেওয়ার পরও মনুবাজারে গিয়ে আবার অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন চালক ও মালিকদের একাংশ।
তাঁদের অভিযোগ, এই নতুন ব্যবস্থা চালুর ফলে গাড়িচালকদের কাছ থেকে আগের তুলনায় বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে এবং এর জন্য সংগঠনের রাজ্য কমিটির কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে কয়েকজন মালিক ও চালককে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, সাব্রুম বাসস্ট্যান্ডে ছাড়পত্র বাবদ আয় কমে যাওয়ায় সেখানে কর্মরত তিনজন কেরানি নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি চালক ও শ্রমিকদের কল্যাণে বিভিন্ন খাতে ব্যয় করার মতো অর্থের সংকট তৈরি হয়েছে বলে সংগঠনের একাংশ দাবি করেছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাসচালক ও গাড়ির মালিকদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাঁরা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
























