নয়াদিল্লি, ১ জুলাই: ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৩১তম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে জেনারেল ধীরজ শেঠ বলেছেন, তিনি দায়িত্ব, সম্মান এবং ‘নেশন ফার্স্ট’-এর আদর্শে অবিচল থেকে বাহিনীকে নেতৃত্ব দেবেন।
বুধবার দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে কর্তব্যরত অবস্থায় শহিদ হওয়া সেনা সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে সাউথ ব্লকের লনে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর অবসরের পর জেনারেল ধীরজ শেঠ ভারতীয় সেনাবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
গার্ড অব অনার গ্রহণের পর তিনি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল কে. এম. শেঠকে স্যালুট জানান। একই সঙ্গে তাঁর ভাই রিয়ার অ্যাডমিরাল রভনিশ শেঠও তাঁকে স্যালুট করেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জেনারেল শেঠ বলেন, “ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৩১তম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা আমার কাছে অত্যন্ত আনন্দ ও বিনয়ের বিষয়। দায়িত্ব, সম্মান এবং ‘নেশন ফার্স্ট’-এর আদর্শে অবিচল থেকে আমি এই দায়িত্ব পালন করব।”
এই দায়িত্ব অর্পণের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “দেশের সেবায় সর্বোচ্চ আত্মবলিদানকারী বীর সেনাদের প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাই। তাঁদের সাহস, নিষ্ঠা এবং আত্মত্যাগ আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।”
জেনারেল শেঠ বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী একটি যুদ্ধ-প্রস্তুত ও অভিজ্ঞ বাহিনী, যা প্রয়োজনীয় আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণে সর্বদা সক্ষম ও প্রস্তুত।
পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য প্রযুক্তিনির্ভর, ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত এবং বহুক্ষেত্রে অভিযান পরিচালনায় সক্ষম একটি সেনাবাহিনী গড়ে তোলা।”
তিনি জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ঘোষিত ‘ডিকেড অব ট্রান্সফরমেশন’-এর ভাবনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ‘বিজয়’ শব্দের প্রতিটি অক্ষরের মাধ্যমে নিজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছেন।
‘ভি’ অর্থ সতর্কতা এবং প্রস্তুতি বা সতর্কতা ও সর্বদা প্রস্তুতি। তিনি বলেন, সীমান্ত ও উদীয়মান নিরাপত্তা হুমকির ওপর সর্বক্ষণ নজরদারি রাখা হবে এবং যে কোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হবে।
‘আই’ অর্থ উদ্ভাবন এবং রূপান্তর। তাঁর কথায়, যুদ্ধনীতি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা—উভয় ক্ষেত্রেই উদ্ভাবনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রের উপযোগী পরিবর্তন আনা হবে।
‘জে’ অর্থ যৌথতা এবং একীকরণ। তিনি বলেন, ভারতীয় বায়ুসেনা ও নৌসেনার সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি সামরিক-বেসামরিক সহযোগিতা এবং ‘হোল-অব-নেশন’ পদ্ধতির মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা ও ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যে কাজ করা হবে।
‘এ’ অর্থ আত্মনির্ভরশীলতা বা আত্মনির্ভরতা। দেশীয় প্রযুক্তি ও সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে আত্মনির্ভর সেনাবাহিনী গড়ে তোলাই হবে লক্ষ্য। তিনি বলেন, “দেশীয় প্রযুক্তির সাহায্যেই ভবিষ্যতের যুদ্ধ জয় করার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে।”
‘ওয়াই’ অর্থ যোদ্ধাই প্রথম। জেনারেল শেঠ বলেন, “অগ্নিবীর থেকে প্রবীণ সেনা—সবাই আমাদের ‘যোদ্ধা’ এবং তাঁরাই সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি আমার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”
তিনি আরও বলেন, অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী এবং বীর নারীরাও সেনা পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁদের কল্যাণ, ক্ষমতায়ন ও পেশাগত উন্নয়নের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রাক্তন সব সেনাপ্রধান, বিশেষ করে তাঁর পূর্বসূরি জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর নেতৃত্ব ও অবদানের প্রশংসা করে জেনারেল শেঠ বলেন, তাঁদের দূরদর্শিতাই ভারতীয় সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য বাহিনীতে পরিণত করেছে।
দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “ভারতীয় সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং ভবিষ্যতেও সেই প্রস্তুতি অটুট থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত ‘জয়’—অর্থাৎ যৌথতা, আত্মনির্ভরতা এবং উদ্ভাবন—মন্ত্রই তাঁর ঘোষিত ‘বিজয়’ অগ্রাধিকারের ভিত্তি।


















