ওয়াশিংটন, ২০ জুন (আইএএনএস): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারককে (মেমোরান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা এবং মার্কিন কংগ্রেসের শীর্ষ আইনপ্রণেতারা। সমর্থকদের মতে, এই চুক্তি হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা, আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাস এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এমন একটি সমঝোতা নিশ্চিত করেছেন, যার মাধ্যমে ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করবে না। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে অবাধ নৌ-চলাচল পুনরায় শুরু হবে এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনার জন্য একটি কাঠামো গড়ে উঠবে।
জি-৭ নেতাদের এক যৌথ বিবৃতিতে এই সমঝোতাকে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি “ঐতিহাসিক সুযোগ” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এটি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার পাশাপাশি তার আঞ্চলিক ও ব্যালিস্টিক কার্যকলাপ সম্পর্কিত উদ্বেগ মোকাবিলার সুযোগ তৈরি করবে। চুক্তি বাস্তবায়নে তারা সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার এই চুক্তিকে যুদ্ধের অবসান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেন। তিনি ট্রাম্পের পাশাপাশি পাকিস্তান, কাতার এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলিকেও অভিনন্দন জানান।
উরসুলা ভন ডের লেয়েন বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির একটি “চূড়ান্ত সমাপ্তি” হওয়া উচিত। তাঁর কথায়, “হরমুজ প্রণালী খুলে যাবে, তেলের দাম কমছে এবং এভাবেই কূটনীতি ফল দেয়।”
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, এই সমঝোতা দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত করবে এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর সুযোগ তৈরি করবে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ একে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাই টাকাইচি যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালীতে দ্রুত নিরাপদ ও অবাধ নৌ-চলাচল পুনরায় শুরু হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতের আলোচনা ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাবে।
কাতার-এর বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই চুক্তি উভয় পক্ষের শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য মেটানোর প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন এবং এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে উৎসাহিত করবে। একইভাবে সুইজারল্যান্ড একে উত্তেজনা প্রশমনের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছে।
জাতিসংঘ-ও এই অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছে। মহাসচিব আন্তোনিও গুটেরেস-এর মুখপাত্র বলেন, তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার কাঠামো তৈরির এই চুক্তি সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান নেতারাও চুক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। সিনেট রিপাবলিকান কনফারেন্সের চেয়ারম্যান জন ব্যারাসো বলেন, ট্রাম্প আমেরিকার শক্তিশালী অবস্থান থেকে ইরানকে আলোচনায় নিয়ে এসেছেন। সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম চুক্তিটিকে শান্তির পথে একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে সিনেটর র্যান্ড পল বলেন, “এই যুদ্ধের অবসান হওয়া উচিত। শান্তির পক্ষে আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আছি।”
প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান সদস্যরাও একই সুরে সমর্থন জানিয়েছেন। প্রতিনিধি রবার্ট অ্যাডারহোল্ট বলেন, এই চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলবে এবং ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ করতে হবে। প্রতিনিধি অ্যান্ডি হ্যারিস একে “আমেরিকা এবং বিশ্বের জন্য এক স্মরণীয় দিন” বলে অভিহিত করেন।
























