নয়াদিল্লি, ১৩ জুন (আইএএনএস): দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং বিভিন্ন ডিজিটাল উদ্যোগের আওতায় ১.৪৯ লক্ষেরও বেশি স্কুলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে শনিবার জানিয়েছে কেন্দ্র সরকার। পাশাপাশি ১.৭৬ লক্ষের বেশি স্মার্ট ক্লাসরুম এবং ১.৭৯ লক্ষ আইসিটি ল্যাব অনুমোদন করা হয়েছে।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ডিজিটাল শিক্ষামাধ্যমের প্রসার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্বয়ম প্ল্যাটফর্মে বর্তমানে ১৮,৫৮০টিরও বেশি কোর্স উপলব্ধ রয়েছে। এতে ৬.১ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী নথিভুক্ত হয়েছেন এবং ৫৩.৭ লক্ষের বেশি সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া স্বয়ং প্রভা, পিএম ই-বিদ্যা এবং দীক্ষা-র মাধ্যমে টেলিভিশন, রেডিও, ডিজিটাল কনটেন্ট ও ই-রিসোর্স ব্যবহার করে শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে। ডিক্ষা প্ল্যাটফর্মে একাই ১৩৫টি ভাষায় ৩.৬৬ লক্ষেরও বেশি ই-কনটেন্ট সংরক্ষিত রয়েছে।
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এক জাতি এক সাবস্ক্রিপশন উদ্যোগের মাধ্যমে ৭,৪১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও একাডেমিক সামগ্রীর প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি পেয়েছে, যার সুবিধা পাচ্ছেন প্রায় ৯৯ লক্ষ ব্যবহারকারী।
উদ্ভাবন ও উদ্যোগ গড়ে তোলার লক্ষ্যে অটল উদ্ভাবন মিশন-এর অধীনে ১০ হাজারের বেশি অটল টিঙ্কারিং ল্যাবস স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ১.১ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী উপকৃত হয়েছে এবং উদীয়মান প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ১৬ লক্ষের বেশি প্রকল্প তৈরি হয়েছে।
এছাড়া ৭২টি অটল ইনকিউবেশন কেন্দ্র ৬,৭০০-র বেশি স্টার্টআপকে সহায়তা করেছে এবং ৩২ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সাহায্য করেছে।
সরকারি বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ভারতে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশে স্বীকৃত স্টার্টআপের সংখ্যা ২.৩ লক্ষেরও বেশি। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচি এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে দেশের যুবসমাজ ‘অমৃত প্রজন্ম’ হিসেবে গড়ে উঠছে এবং ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এদিকে দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সাফল্যের দাবি করেছে কেন্দ্র। ২০১৮ সালে জন শিক্ষা সংস্থান (জেএসএস)-এর পুনর্গঠনের মাধ্যমে স্থানীয় চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। সেলাই, সূচিশিল্প, হস্তশিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা-সংক্রান্ত বিভিন্ন কোর্সের মাধ্যমে গ্রামীণ ও প্রান্তিক স্তরে জীবিকানির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত জেএসএস-এর অধীনে মোট ৩৬.৪৮ লক্ষ মানুষ প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।
এছাড়া ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে জেএসএস-এর উৎপাদিত সামগ্রী উদ্যমকার্ট পোর্টাল-এর মাধ্যমে বাজারজাত করা হচ্ছে, যার ফলে কারিগর ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সরাসরি ক্রেতাদের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারছেন।
৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত মোট ২৬,৭২০ জন আদিবাসী উপভোক্তা এই কর্মসূচিতে নথিভুক্ত হয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে ২৬,৫১৯ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।























