পাটনা, ৪ জুন (আইএএনএস): বিহারের মুজাফ্ফরপুর জেলার ব্রহ্মপুরা এলাকার প্রসাদ হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ধোঁয়ায় ভরে যাওয়া হাসপাতাল ভবন থেকে ২০ জনেরও বেশি রোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। আহত ও সংকটজনক অবস্থায় থাকা কয়েকজন রোগীকে দ্রুত নিকটবর্তী অন্যান্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোরের মধ্যে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ঘন ধোঁয়া পুরো ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আগুন লাগার পর হাসপাতালের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাহায্যের আর্তনাদ শোনা যায়। হাসপাতালের কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা মিলে জানালা ভেঙে আইসিইউতে আটকে থাকা রোগীদের উদ্ধার করেন। তাঁদের দ্রুত তৎপরতার ফলে আরও বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে আটটি দমকল ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
দমকল বিভাগের কর্মকর্তা আর.এন. পাণ্ডে জানান, রাত প্রায় ৩টা নাগাদ অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়। তিনি বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের দল হাসপাতালে পৌঁছায়। আইসিইউ ঘন ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছিল। ২০ জনেরও বেশি রোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং স্বাস্থ্য দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ তদারকি করেন।
মুজাফ্ফরপুরের জেলা শাসক সুব্রত কুমার সেন তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের সময় আইসিইউতে ১৩ থেকে ১৫ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
প্রশাসন মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি হাসপাতালের আইসিইউ-র ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও মূল্যায়ন করছে।
প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে বিস্তারিত প্রযুক্তিগত তদন্তের পরই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে জেলা প্রশাসন একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটি অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি হাসপাতালের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখবে।



















