আহমেদাবাদ, ৪ জুন (আইএএনএস): গুজরাটের আহমেদাবাদের গোটা ওয়ার্ডে দূষিত পানীয় জল সরবরাহের অভিযোগে প্রায় ৫০ জন বাসিন্দা ডায়রিয়া ও বমিতে আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ।
জানা গিয়েছে, সোলা এলাকার জনতানগর ক্রস রোড সংলগ্ন নয়টি আবাসনে এই অসুস্থতার ঘটনা সামনে আসে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, জল সরবরাহ ও নিকাশি লাইনের মেরামতির সময় প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে দূষিত জল পানীয় জলের লাইনে মিশে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল এবং আহমেদাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (এএমসি) শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন অমিত শাহ। আক্রান্ত এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং পরিষেবা পুনরুদ্ধারের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ও বুধবার আক্রান্তদের মধ্যে ডায়রিয়া ও বমির উপসর্গ দেখা দেয়। খবর পাওয়ার পরই স্বাস্থ্য ও প্রকৌশল বিভাগের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
এএমসি-র এক আধিকারিক জানান, সত্তাধর ব্রিজ সংলগ্ন আকাঙ্ক্ষা ফ্ল্যাট, নবরত্ন ফ্ল্যাট এবং ত্রিদেব সোসাইটিতে অসুস্থতার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক ও প্যারামেডিক্যাল কর্মী এবং প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরি ব্যবস্থা নেন।
পুরসভার দাবি, নিকাশি লাইনের একটি সংযোগস্থলে মেরামতির কাজ চলাকালীন এই সমস্যা তৈরি হয়। এর ফলে দূষিত জল আশপাশের জল সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। ইতিমধ্যেই আক্রান্ত আবাসনগুলির জলাধার পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের প্রায় ৪০টি দল বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা চালাচ্ছে। পাশাপাশি বাসিন্দাদের মধ্যে ক্লোরিন ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে।
এএমসি-র মেডিক্যাল অফিসার অব হেলথ ডা. ভবিন সোলাঙ্কি জানান, একটি মোবাইল মেডিক্যাল ভ্যানের মাধ্যমে ৫০ জন রোগীকে বহির্বিভাগভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সকলের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তিনজনকে ইতিমধ্যেই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং আরও কয়েকজনকে শীঘ্রই ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে।
তিনি জানান, দূষিত জল সরবরাহের প্রভাব পড়েছে প্রায় ৩২৬টি পরিবারের ওপর।
এদিকে আহমেদাবাদের মেয়র হিতেশ বারোট আক্রান্ত আবাসনগুলি পরিদর্শন করে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। মিউনিসিপ্যাল কমিশনার বাঞ্চানিধি পানি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন আবাসনের ভূগর্ভস্থ জল সংরক্ষণ ব্যবস্থারও বিশেষ পরিদর্শন করা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং জল সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।


















