কলকাতা, ৩ জুন (আইএএনএস): হাওড়ার উলুবেড়িয়া (পূর্ব) কেন্দ্রের বহিষ্কৃত তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক রীতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার ৫৯ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পৌঁছলেন। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠী নয়, বরং তাঁদের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীই বর্তমানে রাজ্যের প্রকৃত প্রধান বিরোধী শক্তি।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ রীতব্রত বিধানসভা চত্বরে পৌঁছন। এরপর একে একে তাঁর সমর্থনে স্বাক্ষরকারী বিধায়করাও সেখানে উপস্থিত হতে শুরু করেন।
সমর্থক বিধায়কদের দাবি, উত্তর কলকাতার এন্টালি কেন্দ্রের বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহাও যে কোনও মুহূর্তে বিধানসভায় পৌঁছতে পারেন।
এক মহিলা বিধায়ক বলেন, “সন্দীপন এলে একটি সংক্ষিপ্ত বৈঠক হবে। তারপর যা করণীয় তা করা হবে এবং পরে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হবে।”
মঙ্গলবার বিধানসভা চত্বরে এসে রীতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পরোক্ষভাবে এই সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে অভিযোগ করেন যে, সোনারপুরে ৩০ মে হামলার ঘটনার পর তিনি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) নিরাপত্তা চাইছেন।
রীতব্রত বলেন, “তিনি কেমন জননেতা? ২৪ মে দলের ভরাডুবির পর ২৬ দিন বাড়িতে ছিলেন। এখন নিজের জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা চাইছেন। আগে বলতেন, সাধারণ মানুষই তাঁকে রক্ষা করবে। তাহলে এখন নিরাপত্তা চাওয়ার প্রয়োজন কেন?”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসকে কর্পোরেট ব্যবস্থাপনার ধাঁচে পরিচালনা করছেন এবং সম্পূর্ণভাবে আই-প্যাক (ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি)-এর উপর নির্ভরশীল।
উল্লেখ্য, রীতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে সোমবার তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক বৈঠকে জানানোর কয়েক মিনিটের মধ্যেই এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আসে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিধানসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ নথিতে তৃণমূল বিধায়কদের স্বাক্ষর নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগের তদন্তে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত শুরু করেছে। রীতব্রত ও সন্দীপন এই বিষয়ে স্পিকার রথীন্দ্র বসুর দফতরকে অবহিত করেছিলেন বলে জানা যায়।



















