নয়াদিল্লি, ২ জুন: কয়েক দিনের বিলম্বের পর আগামী ৪ জুন কেরলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি)। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে দেশের ২০২৬ সালের বর্ষা মৌসুম।
আইএমডি জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহ দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্ষার প্রথম ধাক্কায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে কেরলে। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় আগামী ছয় থেকে সাত দিনের মধ্যে ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও তামিলনাড়ু ও কর্নাটকের কয়েকটি এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। আরব সাগরের উপর আর্দ্রতাবাহী মৌসুমি বায়ু শক্তিশালী হয়ে উত্তরমুখী অগ্রসর হওয়ায় এই বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
ভারতের কৃষি, জলসম্পদ এবং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য বর্ষার আগমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের প্রায় অর্ধেক কৃষিজমি সেচের জন্য মৌসুমি বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি জলাধার পূরণ, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং গ্রীষ্মের তীব্র তাপপ্রবাহ থেকে স্বস্তি দিতেও বর্ষার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে বর্ষার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অংশে প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। আইএমডি সতর্ক করেছে যে আগামী সপ্তাহে উত্তর-পশ্চিম, মধ্য ও পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং দক্ষিণ উপদ্বীপীয় ভারতের বিভিন্ন অংশে মাঝারি থেকে তীব্র বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই বজ্রঝড়ের সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এর ফলে খোলা জায়গায় কাজকর্ম, অস্থায়ী নির্মাণ, বিদ্যুৎ পরিকাঠামো এবং কৃষিক্ষেত্রে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় আবহাওয়া সংক্রান্ত নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উত্তর-পশ্চিম ভারতের দিল্লি-এনসিআর, রাজস্থান, পঞ্জাব ও হরিয়ানায় বজ্রঝড় এবং দমকা হাওয়ার প্রভাবে সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহ থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। একই ধরনের আবহাওয়া মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তীসগঢ়-সহ মধ্য ভারতের বিভিন্ন অংশেও বজায় থাকবে বলে পূর্বাভাস। অন্যদিকে বিহার, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গেও বজ্রবিদ্যুৎসহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
গত কয়েক দিনের প্রাক্-বর্ষা বজ্রঝড় দেশের বহু অঞ্চলে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। আবহাওয়াবিদরা আগামী কয়েক দিনে কেরল থেকে দক্ষিণ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যান্য অংশে মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতির উপর নজর রাখবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো এবং সমভাবে বণ্টিত বর্ষা দেশের কৃষি উৎপাদন, জলনিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহ দেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।
ভারী বৃষ্টি, বজ্রঝড় এবং প্রবল দমকা হাওয়ার পূর্বাভাসের মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালের বর্ষা মৌসুমের সূচনা হতে চলেছে এক সক্রিয় আবহাওয়াগত পরিস্থিতির মধ্যেই।



















