নয়াদিল্লি, ১ জুন (আইএএনএস): ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-কে নিট-ইউজি ২০২৬-এর পুনঃপরীক্ষা কম্পিউটার-বেসড টেস্ট (সিবিটি) পদ্ধতিতে নেওয়ার নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে, আগামী ২১ জুন নির্ধারিত পুনঃপরীক্ষার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই চলমান থাকায় এই পর্যায়ে এমন নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয়।
বিচারপতি পি. এস. নরসিমহা এবং বিচারপতি অরবিন্দ কুমারের বেঞ্চ পুনঃপরীক্ষাকে বর্তমান পেন-অ্যান্ড-পেপার পদ্ধতি থেকে সিবিটি মোডে স্থানান্তরের দাবিতে দায়ের করা আবেদনটি অবিলম্বে গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি জুলাই মাসে নির্ধারণ করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে ২১ জুন নির্ধারিত পুনঃপরীক্ষা বর্তমান পদ্ধতিতেই অনুষ্ঠিত হবে। পুনঃপরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড ১৪ জুনের মধ্যে প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অ্যাডভোকেট সত্যম সিং রাজপুত দায়ের করা আবেদনে ২১ জুনের পুনঃপরীক্ষা সিবিটি পদ্ধতিতে নেওয়ার জন্য জরুরি নির্দেশ চাওয়া হয়েছিল। আবেদনে বলা হয়, বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত ত্রুটির কারণে পেন-অ্যান্ড-পেপার পদ্ধতির দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
শুনানির সময় বিচারপতি নরসিমহার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন নির্দেশ দেওয়ার “কোনও প্রশ্নই ওঠে না”। আদালত উল্লেখ করে যে, পরীক্ষা একবার ইতিমধ্যেই বাতিল হয়েছে এবং এখন তা পুনরায় আয়োজন করা হচ্ছে।
শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, বিষয়টি পরবর্তী শুনানিতে বিবেচনা করা যেতে পারে। একইসঙ্গে এনটিএ-র কার্যক্রমে সংস্কার আনার দাবিতে দায়ের হওয়া অন্যান্য মুলতুবি আবেদনের সঙ্গে এই মামলাটিকেও যুক্ত করা হয়েছে।
আবেদনে আরও দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের বিতর্কের পর প্রাক্তন ইসরো প্রধান কে. রাধাকৃষ্ণনের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও নিট-ইউজি ২০২৬ মূলত একই পেন-অ্যান্ড-পেপার কাঠামোয় পরিচালিত হয়েছে, যেখানে প্রশ্নপত্রের মুদ্রণ, সংরক্ষণ এবং পরিবহণের মতো গোপনীয় প্রক্রিয়াগুলি বহাল রয়েছে।
গত সপ্তাহে পরীক্ষা সংস্কার সংক্রান্ত একগুচ্ছ আবেদনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট এনটিএ-র মধ্যে ব্যক্তিগত জবাবদিহিতা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়। আদালত মন্তব্য করে, পরীক্ষাপদ্ধতি নিয়ে বারবার বিতর্ক এড়াতে হলে বিভিন্ন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের নির্দিষ্টভাবে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
এদিকে, কেন্দ্র সরকার আদালতকে জানিয়েছে যে নিট-ইউজি ২০২৬ বিতর্কের পর পরিস্থিতির ওপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যক্তিগতভাবে নজর রাখছেন।



















