শান্তিরবাজার, ১ জুন: জাতীয় স্তরের গুণগত মানের স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে সোমবার শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতাল পরিদর্শনে আসে এনকোয়াস প্রতিনিধিদল। তিন সদস্যের এই দল আগামী তিন দিন ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন পরিষেবা, পরিকাঠামো এবং স্বাস্থ্যসেবার মান খতিয়ে দেখবে।
জানা গেছে, দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতাল চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় রোগীদের উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের পাশাপাশি হাসপাতালের সার্বিক পরিকাঠামোগত উন্নয়নও ঘটেছে। এরই স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় স্তরের মূল্যায়নের জন্য এনকোয়াস টিমের এই পরিদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সোমবার সকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। পরে হাসপাতালের প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিভাগ, পরিষেবা ব্যবস্থা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়। আলোচনা শেষে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, চিকিৎসা ইউনিট, বহির্বিভাগ এবং অন্যান্য পরিকাঠামো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
এদিকে, পরিদর্শন চলাকালীন সংবাদ সংগ্রহকে কেন্দ্র করে কিছুটা বিতর্কেরও সৃষ্টি হয়। কয়েকজন সাংবাদিকের অভিযোগ, রূপাইছড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. রাহুল দাস তাঁদের সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেন এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। যদিও এ বিষয়ে ডা. রাহুল দাসের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন এনকোয়াস টিমের সদস্য সুনীত শ্রীবাস্তব, রেনুকা শিন্ডে ও অঙ্কিতা নাথ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা পরিষদের সভাধিপতি দীপক দত্ত, শান্তিরবাজারের বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং, শান্তিরবাজার পুরপরিষদের চেয়ারম্যান স্বপ্না বৈদ্য, ভাইস চেয়ারম্যান সত্যব্রত সাহা, জেলা হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডা. লুফাং মগ এবং দক্ষিণ জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. জে. এম. দাস।
এনকোয়াস টিমের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। এলাকার মানুষের আশা, এই মূল্যায়নের মাধ্যমে শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতাল জাতীয় স্বীকৃতি লাভ করবে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করতে সক্ষম হবে।



















