কলকাতা, ১ জুন (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের জন্য চালু হওয়া ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে অবৈধভাবে সুবিধা নেওয়া উপভোক্তাদের, এমনকি পুরুষদের নামেও আর্থিক অনুদান পাওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে প্রায় ৩০ লক্ষ ‘অবৈধ’ উপভোক্তা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন, যাঁদের মধ্যে পুরুষরাও রয়েছেন।
তিনি বলেন, “ইতিমধ্যেই এমন ২২টি অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত হয়েছে যেখানে পুরুষদের নামে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা জমা পড়েছে। যদি এই ৩০ লক্ষ অবৈধ উপভোক্তার প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে প্রকল্প অনুযায়ী ১,৫০০ টাকা করে জমা হয়ে থাকে, তাহলে রাজ্যের কোষাগার থেকে কত টাকা অপচয় বা আত্মসাৎ হয়েছে তা সহজেই অনুমেয়। তাই আমি রাজ্যের ডিজিপিকে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি।”
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, একই ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন নামে একাধিক ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে এই প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, মুস্তাফিজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী ১৫টি পৃথক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রকল্পের টাকা পেয়েছেন। একইভাবে তারিকুল রহমান নামে এক ব্যক্তি ছয়টি আলাদা অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের অর্থ গ্রহণ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারী আরও দাবি করেন, একাধিক অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় টাকা পেয়েছেন।
তাঁর কথায়, “এই অবৈধ উপভোক্তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে এবং আমরা নিশ্চিত করব যে শুধুমাত্র প্রকৃত ভারতীয় মহিলা উপভোক্তারাই ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র সুবিধা পাবেন। এই প্রকল্পে মাসিক অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করা হয়েছে এবং এটি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে চালু হয়েছে।”
প্রথমে রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছিল, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বর্তমান উপভোক্তাদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তবে পরে সরকার জানায়, অন্নপূর্ণা যোজনায় নাম নথিভুক্ত করতে ১২ পাতার একটি ফর্ম পূরণ করতে হবে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বিপুল সংখ্যক অবৈধ উপভোক্তার সন্ধান পাওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
এদিকে ১২ পাতার ফর্ম পূরণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ বাড়তে থাকায় গত সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, রাজ্য সরকারি কর্মীরা সরাসরি উপভোক্তাদের বাড়িতে গিয়ে ফর্ম পূরণে সাহায্য করবেন।



















