নিজস্ব প্রতিনিধি, ধর্মনগর, ১ জুন: উত্তর জেলার কালাছড়া ব্লক এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুগ্ধবতী গাভীর মৃত্যু ঘটেছে। আজ সকাল থেকে ক্ষতিপূরণের দাবিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন গ্রামবাসীরা।
বৈদ্যুতিক খুঁটি শর্ট সার্কিট হয়ে এক কৃষকের দুগ্ধবতী গাভীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল উত্তর ত্রিপুরার কালাছড়া ব্লক এলাকার পশ্চিম ইচাইলালছড়া গ্রামের ১ নং ওয়ার্ডে। বিদ্যুৎ দপ্তরের চরম গাফিলতির বিরুদ্ধে আজ সকাল থেকেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক পিলারগুলো মেরামতের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আজ সকালে প্রতিদিনের মতোই পশ্চিম ইচাইলালছড়া গ্রামের ১ নং ওয়ার্ডের এক কৃষক তার দুগ্ধবতী গাভীটিকে মাঠে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় রাস্তার পাশে থাকা একটি বিদ্যুতের খুঁটির সংস্পর্শে আসতেই তীব্রভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় গাভীটি। ঘটনাস্থালেই মৃত্যু হয় গবাদি পশুটির। এই ঘটনায় অসহায় কৃষক পরিবারটি যেমন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে, তেমনই পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই এলাকার বেশ কয়েকটি বৈদ্যুতিক পিলার দীর্ঘদিন ধরে শর্ট হয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে।
এই বিষয়ে বারবার স্থানীয় বিদ্যুৎ দপ্তরে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ নেননি বিদ্যুৎ কর্মীরা। দপ্তরের এই উদাসীনতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই আজ এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি গ্রামবাসীদের। গাভীটির মৃত্যুর পর স্থানীয় কদমতলা থানায় পুরো বিষয়টি জানানো হয়। কিন্তু গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ঘটনা জানানোর বেশ কয়েক ঘণ্টা কেটে গেলেও এখন পর্যন্ত থানা বাবুর কোনো দেখা মেলেনি বা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়নি। প্রশাসনের এই ভূমিকায় ক্ষোভ আরও দ্বিগুণ হয়েছে।
উত্তেজিত গ্রামবাসীরা বিদ্যুৎ দপ্তরের কাছে মৃত গাভীটির জন্য উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তাদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি অতি দ্রুত এলাকার সমস্ত বিপজ্জনক এবং শর্ট হয়ে থাকা বিদ্যুতের পিলারগুলো সংস্কার করতে হবে। দ্রুত কাজ না হলে যেকোনো সময় শুধু গবাদি পশু নয়, সাধারণ মানুষেরও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণহানি ঘটতে পারে। প্রশাসন ও বিদ্যুৎ দপ্তর দ্রুত কোনো পদক্ষেপ না নিলে আগামীদিনে তারা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন পশ্চিম ইচাইলালছড়ার বাসিন্দারা।



















