নতুন দিল্লি, ৫ মে (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ের পর দলের নেতা তথা খড়গপুরের জয়ী প্রার্থী দিলীপ ঘোষ মঙ্গলবার বলেছেন, এই ফলাফল কোনও প্রতিষ্ঠানের প্রভাব নয়, বরং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “যখন কংগ্রেস ক্ষমতায় ছিল, তখন তারাও জিতত। তখন কি নির্বাচন কমিশন তাদের জেতাত? জয়-পরাজয় সবটাই মানুষের হাতে। জনগণই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী।”
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ফলাফল নির্ভর করে জনমত ও জবাবদিহিতার ওপর। “অন্যদের সঙ্গে যেমন আচরণ করা হয়—অপমান ও অসম্মান—তা একদিন ফিরে আসে। আজ বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে,” মন্তব্য করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন সরানো হবে? মানুষই তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছে। কেউ কেউ নানা অভিযোগ তুলছেন, কিন্তু তিনি ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকেও প্রত্যাশিত ফল দিতে পারেননি। দুর্নীতি ও হিংসার অভিযোগও ছিল।”
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই জয়কে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে বিজেপি প্রধান শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে।
চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, ২৯৩টি ঘোষিত আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৬টি আসন জিতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮১টি আসন, কংগ্রেস ২টি, সিপিআই(এম) ১টি, এআইএসএফ ১টি এবং আজুপ ২টি আসন।
ভোটের শতাংশের নিরিখে বিজেপি পেয়েছে ৪৬ শতাংশ, তৃণমূল কংগ্রেস ৪১ শতাংশ, বামফ্রন্ট ৪ শতাংশ, কংগ্রেস ৩ শতাংশ এবং অন্যান্য দল মিলিয়ে ৬ শতাংশ ভোট।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, তৃণমূল কংগ্রেস কোচবিহার, পূর্ব মেদিনীপুর, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়াসহ মোট ১০টি জেলায় একটি আসনও জিততে পারেনি, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে তাদের অন্যতম খারাপ ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
— আইএএনএস


















