বেঙ্গালুরু/চেন্নাই, ৪ মে (আইএএনএস): সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে কর্ণাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার দাবি করেছেন, দক্ষিণ ভারতের ভোটাররা বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও তামিলনাড়ুসহ একাধিক রাজ্যে বিজেপি প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। তাঁর দাবি, বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।
কেরলের ফলাফল প্রসঙ্গে শিবকুমার বলেন, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ বড় ব্যবধানে জয় পেয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে। “কেরলের মানুষ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন,” মন্তব্য তাঁর। তামিলনাড়ুতেও ভোটাররা বিজেপি ও তার মিত্রদের প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, তামিলনাড়ুতে নির্বাচনের ফল মেনে নিয়ে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্টালিন জানান, তাঁর দল দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগম (ডিএমকে) গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে কাজ করবে। তিনি গণতান্ত্রিক রায়কে সম্মান জানিয়ে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান।
এই নির্বাচনে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। অভিনেতা-থেকে-রাজনীতিবিদ সি. জোসেফ বিজয়-এর নেতৃত্বাধীন তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম (টিভিকে) উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়ে প্রধান শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, টিভিকে সর্বাধিক আসনে জয়ী। ডিএমকে দ্বিতীয় স্থানে এবং এআইএডিএমকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। সবচেয়ে বড় চমক, কোলাথুর কেন্দ্র থেকে স্টালিন নিজেই টিভিকে প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন।
২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। এক দফায় ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হয় এবং প্রায় ৮৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের ডিএমকে-এআইএডিএমকে দ্বৈত রাজনীতির বাইরে এসে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে তামিলনাড়ু। টিভিকে-র উত্থান রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
সব মিলিয়ে, দক্ষিণ ভারতের এই নির্বাচনী ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


















